প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৫০ পিএম
হটাৎ বন্যায় ডুবে গেছে স্লোভেনিয়ার অনেক গ্রাম। ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক
বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব শনিবার (৫ আগস্ট) জাতীয়
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের শেষে দেওয়া এক ভাষণে এমনটাই বলেছেন।
রবার্ট গলব জানান, দেশটিতে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫০ কোটি
ইউরোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, নিহত হয়েছেন ৩ জন। অনেক স্থানের রাস্তা, সেতু ও শত শত বাড়িঘর
ধ্বংস হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে ছোট্ট এই আল্পাইন দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনেককে উদ্ধারে হেলিকপ্টার বা নৌযান ব্যবহার করছে জরুরি বিভাগের কর্মীরা। এরই মধ্যে
স্লোভেনিয়ার সেনাবাহিনী ত্রাণ প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছে। জরুরি সাহায্য নিয়ে দেশটির বিচ্ছিন্ন
উত্তরের এলাকায় তারা পৌঁছে গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ফুটেজে দেখা গেছে, অনেক গ্রাম এরই
মধ্যে পানির নিচে চলে গেছে, আউটডোর ক্যাম্পেইন এর সাইটগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, গাড়িগুলোর
চাকা কাদায় আটকে গেছে।
দেশটির বার্তা সংস্থা এসটিএ বলছে, দেশটির অনেক সড়ক শনিবার বন্ধ ছিল, এ ছাড়া অনেক সেতু ধসে পড়েছে।

শুক্রবারই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে দেশটির নদীগুলো দ্রুত স্ফীত হয়ে বাড়িঘর, মাঠ ও শহরের পানির প্রবেশ ঘটায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যাক্রান্ত হয় দেশটির অধিকাংশ এলাকা।
স্লোভেনিয়ার আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, এক মাসের সমান বৃষ্টি
এক দিনেরও কম সময়ে বর্ষিত হওয়ায়-এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্লোভেনিয়ার প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও শনিবার আকস্মিক বন্যার
খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ক্যারিন্থিয়া প্রদেশের প্রায় ৮০ বাসিন্দাকে সাময়িকভাবে তাদের
বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে।
এদিকে পূর্ব ইউরোপের দেশ জর্জিয়ার কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, গত
কয়েকদিনে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে দেশটিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে
নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা হুটহাট এই চরম আবহাওয়ার জন্য আংশিকভাবে জলবায়ু
পরিবর্তনকেই দায়ী করে আসছেন। সম্প্রতি ইউরোপের কিছু অংশ গ্রীষ্মকালে রেকর্ড তাপমাত্রা
দেখেছে এবং দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
গ্রীষ্মের শুরুতেও স্লোভেনিয়ায় বেশ কয়েকটি তীব্র ঝড় বাড়িঘরের
ছাদ পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়েছিল এবং কয়েক হাজার গাছ উপড়ে ফেলেছিল। সে সময় বলকান অঞ্চলের
মধ্যে দিয়ে যাওয়া একটি ঝড়ে ৩ জন মারা যান।
সূত্র : আল জাজিরা