প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ২১:১৪ পিএম
সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান (বাঁয়ে) ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত মে মাসে আরব লিগের সম্মেলনে জেদ্দায়। ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের জেদ্দায় শনিবার থেকে ইউক্রেনের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে একটা বৈঠক শুরু হয়েছে। এতে ৩০টির বেশি দেশের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকটি ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
জেদ্দার বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার (৪ আগস্ট) জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার কারণে বিশ্বের দেশে দেশে খাদ্যের দাম বেড়েছে। এটার সুরাহা হওয়া দরকার। রাশিয়াকে থামানো দরকার। ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও উন্নয়নশীল দেশ ভারত, ব্রাজিল ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে দাওয়াত দেওয়া হয়নির সংকটের মূল পক্ষ রাশিয়াকে।
আমন্ত্রণ জানানো না হলেও এই বৈঠক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া। শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকেভ বলেন, সত্যিকারের শান্তি ফেরাতে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয় সেটাকে স্বাগত জানাবে রাশিয়া। কিন্তু চলমান মুহূর্তে কিয়েভের শান্তি প্রস্তাবে মন নেই। রাশিয়াকে বর্তমানে পুরো পশ্চিমাদের সঙ্গেই লড়তে হচ্ছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর সৌদি আরবের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য বেড়েছে। পশ্চিমাদের অনুসরণে রিয়াদ মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তো দেয়নি, বরং এমন নীতি গ্রহণ করেছে যা রাশিয়ার আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনকেও বিপুল পরিমাণ মানবিক অর্থ সহায়তা দিয়েছে সৌদি আরব। তা ছাড়া তুরস্কের সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ৩০০ যুদ্ধবন্দি বিনিময় করতে মধ্যস্থতা করেছে সৌদি আরব।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জোনাথন প্যানিকফ আল-মনিটরকে বলেন, এই বৈঠক থেকে কোনো ধরনের বড় ফল আশা করা যায় না। তবে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার চেয়ে বেশি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত হওয়ায় জেদ্দা সম্মেলন একটা প্রভাব তৈরি করবে।
আরেক বিশেষজ্ঞ সানাম ভ্যাকিল বলেন, এই বৈঠক থেকে নগদ লাভ হলো ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা নিয়ে বিশ্ব কী ভাবছে, তা নিয়ে একটা আপডেট জানা যাবে। অন্যদিকে এটা আয়োজন করার মধ্য দিয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবে সৌদি আরব।
জেদ্দা বৈঠকে জেলেনস্কির ১০ দফা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে ইউক্রেনের সীমানার অখণ্ডতা, ইউক্রেন থেকে রুশ সেনাদের প্রত্যাহার, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, সব বন্দিকে মুক্তি ও দোষীদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
দফাগুলো নিয়ে গত ২৪ জুন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনেও একটা বৈঠক হয়েছে। তবে সেখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল অনেক কম।
সূত্র : আল-মনিটর, আলজাজিরা