প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ২০:০৩ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৫১ পিএম
নাইজারে ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ। ৩ আগস্ট রাজধানী নিয়ামিতে। ছবি : সংগৃহীত
নাইজারে আঞ্চলিক জোট ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস) সামরিক অভিযান চালালে সেটাকে সমর্থন দেবে ফ্রান্স। শনিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা শনিবার (৫ আগস্ট) এ মন্তব্য করেছেন। এ দিন প্যারিসে নাইজারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওহউমাউদউ মহামাদু ও সেখানে নিয়োজিত নাইজারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর কোলোনা এ মন্তব্য করেন।
কোলোনা বলেন, সামরিক জান্তার হাতে রবিবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত সময় আছে। এর মধ্যে তারা বেসামরিকদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারে। তা না করলে দেশটিতে ইকোওয়াস সামরিক অভিযান চালালে তাকে সমর্থন করবে ফ্রান্স।
তবে ইকোওয়াসের সামরিক অভিযানকে ফ্রান্স কীভাবে সমর্থন করবে, তা স্পষ্ট নয়। অভিযানে ফ্রান্সের সেনারা অংশ নেবে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১৯০০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত নাইজার ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। সেখানে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার ফরাসি সেনা রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও বুরকিনা ফাসোতেও ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল ফ্রান্স। এ দেশগুলোয় তীব্র ফ্রান্সবিরোধিতা রয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে গ্রেপ্তার করে ক্ষমতা গ্রহণ করে নাইজারের প্রেসিডেন্টসিয়াল গার্ড। বাহিনীটার প্রধান আবদুরাহমানে ছিয়ানি নিজেকে মধ্যবর্তী সরকারের প্রধান ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ আরও কিছু পশ্চিমা দেশ নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থানের সমালোচনা করে। ইকোওয়াস রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময় বেঁধে দিয়েছে।
শুক্রবারের (৪ আগস্ট) মধ্যে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়ালে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে ইকোওয়াস। কিন্তু প্রতিবেশীরা দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মালি, লিবিয়া, বুরকিনা ফাসো, আলজেরিয়া নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
সেনেগাল ও নাইজেরিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল সালামী আবুবকরের নেতৃত্বে নাইজারে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে নাইজেরিয়া। লিবিয়া ও আলজেরিয়া দেশটি আলাদা দুটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। তারাও নাইজারে শান্তি ফেরাতে নানা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
কোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন জান্তাপ্রধান ছিয়ানি। বুধবার (২ আগস্ট) এক টেলিভিশন ভাষণে ছিয়ানি বলেন, ইকোওয়াস যদি সামরিক হস্তক্ষেপের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেয়, আল্লার সহায়তায় আমরাও সর্বশক্তি দিয়ে তা মোকাবিলা করব। সত্যিকারের স্বাধীনতার জন্য শেষবারের মতো লড়াই করবে নাইজারের জনগণ।
শুক্রবার ইকোওয়াস জানায়, তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা নাইজারে সামরিক হামলা চালাতে সম্মত হয়েছেন। সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
প্রতিবেশী বেনিন ও জার্মানি সংযম অবলম্বন করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র নাইজারে কিছু সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ নাইজার সংকটের সমাধান করবে না বলে মনে করে রাশিয়া। গত কয়েক বছরের পশ্চিম আফ্রিকায় মস্কোর সামরিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেড়েছে।
সূত্র : আরটি, আলজাজিরা