প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১০:৩২ এএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১১:৫০ এএম
তেহরানের রাস্তায় হিজাব ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছে নারীরা। ছবি : আনাদুলু এজেন্সি
আর কয়েক সপ্তাহ পরই ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী
মাহসা আমিনির মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে ইরান হিজাব আইনে শিথিলতা না এনে
উল্টো কঠোর করতে যাচ্ছে। এমনকি সঠিক নিয়মে যারা হিজাব পরিধান করবে না, তাদের শনাক্ত
করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করবে ইরান সরকার।
পর্দা সম্পর্কিত দেশটির ৭০ ধারার খসড়া আইনে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে,
তার মধ্যে রয়েছে হিজাব আইন লঙ্ঘনকারীদের এবং বোরকা পরতে অস্বীকারকারীদের আরও দীর্ঘ কারাদণ্ড। এ নিয়ম লঙ্ঘনকারী সাধারণ নারী, সেলিব্রেটি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো শনাক্ত
করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে পোশাকবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি ছিল ১০ দিন থেকে ২০ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ ডলার থেকে ১১ ডলার সমমূল্যের অর্থদণ্ড। নতুন আইনে হিজাববিধি লঙ্ঘনকারীর পাঁচ থেকে ১০ বছরের সাজা এবং ৮ হাজার ৫০৮ ডলার সমমূল্যের অর্থ জরিমানা হতে পারে।

খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইরানি পুলিশকে অবশ্যই এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়েও পোশাকবিধি লঙ্ঘনকারীদের
শনাক্ত করা যায়।
চলতি বছরের শুরুর দিকেই দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার করেছিল
যে, হিজাব আইন লঙ্ঘনকারী শনাক্ত করতে জনসমাগমস্থলে ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
৭০ ধারার খসড়া বিলটি এখনও ইরানের পার্লামেন্টে পাস হয়নি। পশ্চিমা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইরানিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা যে গত বছর দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ
হওয়ার পরও সরকার দেখিয়ে দিয়েছে যে, হিজাবের বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে তারা পিছপা হবে
না।
বিলটির খসড়া এরই মধ্যে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে বিচার বিভাগ। সামনের দুই মাসের মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট নতুন এ আইন অনুমোদনের জন্য ভোটাভুটির আয়োজন করবে। পার্লামেন্টে পাস হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুমোদন পেলেই মাঠপর্যায়ে এটি ব্যবহার করা হবে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো নতুন এই প্রস্তাবিত আইনটিকে ড্র্যাকোনিয়ান
(কঠোর) হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভিন্নধারার ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর বলছে, এটি আসলে
গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়া বিক্ষোভেরই প্রতিক্রিয়া।
গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের একটি মেট্রো স্টেশনের সামনে থেকে সঠিক
নিয়মে হিজাব পরিধান না করায় আটক হন ২২ বছর বয়সি তরুণী মাহসা আমিনি। পরে পুলিশি হেফাজতে
অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু
হয়। এ ঘটনা সে সময় ইরানি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
একসময় হিজাববিরোধী আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলনেও রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে।
সূত্র : সিএনএন