প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ০৮:৪৩ এএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১১:৩০ এএম
ইকোওয়াসভুক্ত দেশ নাইজেরিয়ার সেনারা। ছবি : সংগৃহীত
নাইজারের
সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে পশ্চিম
আফ্রিকার দেশগুলোর জোট ইকোনমিক কমিউনিটি
অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস)। সামরিক জান্তাকে
হটাতে এরই মধ্যে দেশটিতে
সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষাপ্রধানরা।
কীভাবে
ও কখন সেনা মোতায়েন
হবে, তা এরই মধ্যে
নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কখন ও কোথায়
হামলা করা হবে তা
প্রকাশ করেনি ইকোওয়াস।
জোটটির
রাজনৈতিক, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক
কমিশনার আবদেল-ফাতাউ মুসাহ নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় তিন দিনের বৈঠক শেষে শুক্রবার
(৪ আগস্ট) জানিয়েছেন, সব পরিকল্পনা সম্পন্ন। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ব্লকের নেতারা।
ইকোওয়াস
এরই মধ্যে নাইজারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ
করেছে এবং বলেছে যে, অভ্যুত্থানকারীরা রবিবারের মধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দিলে তারা
শক্তিপ্রয়োগের অনুমতি দেবে।
এদিকে
১৫টি দেশের এই সংস্থা বৃহস্পতিবার
নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল অভ্যুত্থান সমস্যার শান্তিপূর্ণ মীমাংসা চেয়ে। তবে সফরকারীদের এক সূত্র জানিয়েছেন, সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিমানবন্দরে হওয়া বৈঠকে কোনো
সাফল্য আসেনি।
মুসাহ
বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে কাজ
করতে চাই। আমরা এই
বার্তাটি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রেরণ
করতে চাই যে তারা
যা করেছে, তার বিপরীত করার
জন্য আমরা তাদের সুযোগ
দিচ্ছি।’
নাইজেরিয়ার
প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু শুক্রবার
সিনেটে পাঠ করা একটি
চিঠিতে তার সরকারকে সামরিক
কর্মীদের মোতায়েনসহ বিকল্প সব
উপায়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে
বলেছেন। সেনেগালও বলেছে, তারা সেনা পাঠাবে।
নাইজারের
সামরিক জান্তা বাইরের হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছে এবং বলেছে যে
তারা পাল্টা লড়াই করবে। যদিও
নাইজারের অভ্যুত্থানকারী ৫৯ বছর বয়সি সেনা কর্মকর্তা আবদুরহমানে চিয়ানি ২০০৩ সালে আইভরি
কোস্টে সংঘাতের সময় ইকোওয়াস বাহিনীর
ব্যাটালিয়ন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
চিয়ানি অভ্যুত্থানের আগে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের
প্রধান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইকোওয়াস
ছাড়াও পশ্চিমা দেশগুলোও নাইজারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের প্রতিই সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং অভ্যুত্থানকারীদের বাজুমের
হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে
নাইজারের দুই প্রতিবেশী দেশ
মালি
ও বুরকিনা ফাসো অভ্যুত্থানকারী নাইজারের
সেনা কর্মকর্তাদের সমর্থন দিয়েছে। এ দুই দেশও
ইকোওয়াসের সদস্য। দুই দেশের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, নাইজারের ওপর যেকোনো সামরিক
অভিযানে তারা দেশটির প্রতিরক্ষায়
এগিয়ে আসবে।
সূত্র : আলজাজিরা