প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১১:২১ এএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১২:৪৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের গত সপ্তাহের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার, ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্রকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, বাংলাদেশে বিরোধীদের রাজনৈতিক বিক্ষোভকে যেভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যেভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
গত শনিবার (২৯ জুলাই) ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি দেয় বিএনপি। একই সময়ে এই সব স্থানে ‘সতর্ক পাহারার’ নামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচটি জায়গায় দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। কোনো কোনো জায়গায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও এতে জড়িয়ে পড়েন। হামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কয়েক শত নেতা-কর্মী আহত হন।
এই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে এক সাংবাদিক ম্যাথু মিলারকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে লাখো মানুষ। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ এবং বিরোধী নেতাদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়, যার ফলে শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শতাধিক আহত হয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ বিরোধী দলের ওপর পুলিশের বর্বরতা এবং এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্টত কট্টরপন্থি অবস্থান বিবেচনা করে সামগ্রীক বিষয়কে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ কী পদক্ষেপ নেবে?
জবাবে ম্যাথু মিলার বলেন, সপ্তাহান্তের এই রাজনৈতিক বিক্ষোভকে ঘিরে বাংলাদেশে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এসব সহিংসতার পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে এবং সহিংসতায় জড়িত অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেন শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হয়ে সমাবেশ করতে পারে এবং তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে সেজন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সব পক্ষকে মৌলিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে সম্মান করতে এবং সহিংসতা, হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের মতো কাজ থেকে বিরত থাকতেও আমরা আহ্বান জানাই।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের এই মুখপাত্র বলেন, পরিশেষে আমি বলব, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সবার দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে। এখানে ভোটার, রাজনৈতিক দল, যুবসমাজ এবং পুলিশ, সবার ওপর দায়িত্ব রয়েছে। আর রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
সূত্র : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের ওয়েবসাইট