প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১০:৩৯ এএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৩৪ পিএম
ফরাসি দূতাবাসের সামনে জান্তার সমর্থকরা। ৩০ জুলাই নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে বিদেশি কোনো শক্তি হস্তক্ষেপ করলে সেটাকে নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখবে প্রতিবেশী দেশ মালি ও বুরকিনা ফাসো। এ রকম পরিস্থিতিতে নাইজারের নতুন সামরিক সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করবে এ দুই দেশ। সোমবার (৩১ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে কয়েক বছর ধরে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মালি ও বুরকিনা ফাসো।
যৌথ বিবৃতির চতুর্থ পয়েন্টে বলা হয়, নাইজারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বুরকিনা ফাসো ও মালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস) থেকে বুরকিনা ফাসো ও মালি বেরিয়ে যাবে। নাইজারের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণকে সহায়তা করতে আমরা আত্মপ্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
নাইজারে কোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করে তুলবে। লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর হামলা ঠিক একই ধরনের কাজ করেছিল। ন্যাটোর হামলার ফল হিসেবেই আফ্রিকার সাহেল ও পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করেছে।
নাইজারে ২৬ জুলাই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে সরিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি গার্ড। বাহিনীটির প্রধান জেনারেল আব্দুরহমানে তচিয়ানি রবিবার (৩০ জুলাই) নিজেকে মধ্যবর্তী সরকারের প্রধান ঘোষণা করেন।
নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থানকে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইকোওয়াস।
১৫ দিনের মধ্যে বেসামরিক নেতাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে সামরিক নেতাদের সময় বেঁধে দিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। আর সাংবিধানিক ব্যবস্থায় ফিরতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে ইকোওয়াস।
সোমবার (৩১ জুলাই) গৃহবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে উদ্ধার করতে ফ্রান্স সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তচিয়ানি। এ ধরনের অভিযান ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাইজারের নতুন এই সামরিক প্রশাসক।
নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। নাইজারে বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় দেড় হাজার সেনা রয়েছে। ড্রোনঘাঁটি রয়েছে একটি। আর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা রয়েছে ১ হাজার ১০০-এর মতো। ড্রোনঘাঁটি রয়েছে দুটি।
গত কয়েক বছরে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মালি ও বুরকিনা ফাসো সাবেক ঔপনিবেশিক দেশ ফ্রান্সের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছে। ফ্রান্সের পরিবর্তে দেশ দুটি সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।
রাশিয়াও নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থানকে সংবিধানবিরোধী কার্যক্রম বলে মন্তব্য করেছে। তবে সব পক্ষকে সংযমের পরিচয় দিতে অনুরোধ করেছে।
রবিবার জেনারেল তচিয়ানি ফ্রান্সে ইউরেনিয়াম ও স্বর্ণ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছেন। নাইজার বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ইউরেনিয়াম রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়ামের মোট ৪ শতাংশ আসে এই দেশ থেকে। ফ্রান্সের একটি কোম্পানি গরিব দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে।
সূত্র : আরটি