প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩ ২২:১২ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩ ২২:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গান-বাজনা নৈতিক অধঃপতন ঘটায় দাবি করে আফগানিস্তানে বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়েছে ক্ষমতাসীন তালেবান। শনিবার (২৯ জুলাই) দেশটির পশ্চিমের হেরাত প্রদেশে হাজারো ডলার মূল্যের বাদ্যযন্ত্রগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই তালেবানরা একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রকাশ্যে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিকের প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ সারমাস্ত তালেবানের ওই কর্মকাণ্ডকে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা এবং বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর’ বলে অভিহিত করেছেন। সারমাস্ত বলেন, আফগানিস্তানের জনসাধারণের শৈল্পিক স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তালেবানের নেতৃত্বের অধীনে আফগানিস্তানে কোন ধরনের সাংস্কৃতিক গণহত্যা চলছে, তার একটা সামান্য নমুনা হেরাতে বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, হেরাতে পুড়িয়ে দেওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে গিটার, হারমোনিয়াম, তবলা, অ্যামপ্লিফায়ার এবং স্পিকার। বাদ্যযন্ত্রগুলোর বেশিরভাগই শহরের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে জব্দ করা হয়েছিল। নব্বইয়ের দশকের মধ্যবর্তী সময় থেকে ২০০১ পর্যন্ত সামাজিক অনুষ্ঠান, টিভি এবং রেডিওতে সব ধরনের গান-বাজনা নিষিদ্ধ ছিল।
পরবর্তী দুই দশকে গানের চর্চা গড়ে উঠেছিল দেশটিতে। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবানের ফেরত আসার সঙ্গে সঙ্গে তার অবসান ঘটে। অনেক গায়ক ও বাদ্যযন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালান। আর দেশে যারা রয়ে গেছেন তারাও বিভিন্ন সময় মারধর ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত দুই বছরে তালেবানরা নিজেদের কট্টর ইসলামি শাসনব্যবস্থার অধীনে নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নারীদের। তালেবানরা তাদের পোশাকের ব্যাপারেও বিশেষ নিয়ম করে দিয়েছে। ওই নিয়মে তারা শুধু চোখ দেখাতে পারবেন। এ ছাড়াও বাড়ির বাইরে ৭২ কিলোমিটারের বেশি সফর করলে তাদের সঙ্গে অবশ্যই পুরুষ আত্মীয় উপস্থিত থাকতে হবে বলেও নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে।
কিশোরী এবং নারীদের জন্য স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক এবং জিমের দরজাও বন্ধ করে দিয়েছে তালেবানরা। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে বিউটি পার্লার বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে গোষ্ঠীটি। সূত্র : বিবিসি