প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩ ২১:৫৭ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের অর্থনীতি নিম্নমুখী হতে পারে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং দেশটির প্রযুক্তি খাত হয়ে উঠতে পারে দুর্বল। আর এসবই হতে পারে তাদের ক্ষমতাসীন সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগের জেরে। সম্প্রতি এমন সতর্কবার্তাই জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার (৩১ জুলাই) বিচারব্যবস্থা সংস্কার-সম্পর্কিত একটি আইন প্রণয়ন করেছে ইসরায়েলের আইনসভা নেসেট। ওই আইন এ রকম ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি আইনের মধ্যে প্রথম বলে জানা গেছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, আগামীতে একই ধাঁচের আরও কয়েকটি আইন চোখে পড়বে। সোমবার যে আইন করা হয়েছে, তাতে সরকারি কর্মকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের আপত্তি জানানোর সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল সরকারের এ পদক্ষেপের জেরে বড় পরিসরে বিক্ষোভ হতে দেখা গেছে। শ্রমিক থেকে শুরু করে চিকিৎসক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান– প্রায় সবাই নেমে এসেছে রাস্তায়। ডলারের বিপরীতে শেকেলের মূল্যমান নতুন করে কমেছে ২ শতাংশেরও বেশি। জানুয়ারিতে এ রকম সংস্কার প্রস্তাবের কথা সামনে আসার পর থেকে ডলারের বিপরীতে শেকেলের মূল্যমান কমেছে ৯ শতাংশেরও বেশি।
ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিশ কিনেয়ার বলেন, ’বাইরের বিনিয়োগকারীদের জন্য এ মুহূর্তে ইসরায়েলের মূল সমস্যা হলো অনিশ্চয়তা। কবে নাগাদ শেষ হবে, তা স্পষ্ট নয়। এ রকম হওয়ায় ইসরায়েলের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন।’
অনিশ্চয়তার মুখে ইসরায়েলের শেয়ারবাজারের পরিস্থিতিও ভালো নয়। দেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বাজার থেকে। তবে জুনের শেষ পর্যন্তও চিত্র ছিল অনেকটাই ভালো। কোপলে ফান্ড রিসার্চের তথ্যানুসারে, ওই সময় ইসরায়েলি সম্পদে বিদেশি বিনিয়োগ বেশ শক্তিশালী ছিল। আর সেটি হয়েছিল দেশটির আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে।
সে সময় দেশটিতে বৈদেশিক তহবিলের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ। ম্যাপলক্রফটের কিনেয়ার বলছেন, নাগরিক অস্থিরতা চলতে থাকলে নগদ অর্থ আসার পরিমাণ আরও কমবে।
মরগান স্ট্যানলির তথ্যানুসারে, ইসরায়েলে মোট দেশজ পণ্য উৎপাদন চলতি বছর প্রায় আড়াই শতাংশ বাড়বে। আর পরবর্তী বছর তা বৃদ্ধি পাবে ৩ শতাংশ। তবে দেশের ভেতরে চলমান অস্থিরতা নিরসন করা না হলে যথাক্রমে ১ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৬ শতাংশে এসে দাঁড়াতে পারে।
তহবিল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নাইনটি ওয়ানের সুনির্দিষ্ট আয়বিষয়ক বিশ্লেষক রজার মার্ক বলেন, ’ইসরায়েল এখনও মৌলিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিনিয়োগের একটি অধ্যায়। সমস্যা হলো, এই সরকার– তারা যত দিন এই বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে এগিয়ে যাবে, তত দিন সে অধ্যায়ের অবমূল্যায়ন হতে থাকবে।’
মার্ক সতর্ক করেন, সরকার এসব পরিস্থিতি ঠিক না করলে বিনিয়োগকারীরা দেশটিকে এড়িয়ে যেতে পারেন। কিনেয়ার জানান, ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট সেপ্টেম্বরে বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিরুদ্ধে আপিল শুনবেন। এতে করে প্রত্যক্ষভাবে সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে তারা। স্বল্পমেয়াদের মধ্যেই দ্রুত সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সবচেয়ে বড় যে উদ্বেগটি রয়েছে, তা হলো– এসব ডামাডোলে ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। অথচ ইসরায়েলি অর্থনীতির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে রয়েছে সেটি। জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশজুড়ে রয়েছে তা। অর্ধেকেরও বেশি রপ্তানি ও আয়কর রাজস্বের এক-চতুর্থাংশ আসে ওই খাত থেকে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলে দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকা খাত হলো উচ্চপ্রযুক্তি। সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য খাতে নানাবিধ উদ্ভাবনের জেরে সম্ভব হয়েছে তা। কিন্তু ইসরায়েলি ইনোভেশন অথরিটির সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, অস্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ নতুন ইসরায়েলি স্টার্টআপ দেশের বাইরে নিবন্ধন নিয়েছে। যা হিসাবে ২০২২ সালের তুলনায় বেড়েছে ২০ শতাংশ। এ ছাড়াও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ ৬৫ শতাংশ কমেছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ইউরোপীয় অর্থনীতিবিদ নিকোলাস ফার বলেন, ’সংশোধনীর কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে নিম্ন প্রবৃদ্ধির পথে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।’
সূত্র : রয়টার্স