প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১২:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৬:৫৮ পিএম
বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের বৈঠকে বক্তৃতা দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : পিটিআই
ভারতের বিজেপিবিরোধী জোটের আগের নাম ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) ১৯ বছর পরে চলে গেল ইতিহাসের পাতায়।
তবে নাম বদলালেও বদলায়নি লক্ষ্য। ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটের পরে কংগ্রেস নেতৃত্বে জাতীয় স্তরে যে বিজেপিবিরোধী জোট তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেঙ্গালুরুতে তার কার্যত অবলুপ্তি ঘটল।
এদিন বিজেপিবিরোধিতার উদ্দেশ্যেই আত্মপ্রকাশ করল নতুন জোট ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া)।
যার নামকরণে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিরোধী শিবির সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
বেঙ্গালুরু বৈঠকে হাজির তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন মঙ্গলবার বলেন, ‘সোমবার রাতে সোনিয়া গান্ধীর নৈশভোজের আগেই বৈঠকে কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল নতুন জোটের নাম।’
তিনি জানান, ওই বৈঠকে প্রথম বক্তা ছিলেন মমতা। আর শেষ বক্তা ছিলেন রাহুল। তৃণমূল নেত্রী তার বক্তৃতায় বিরোধী জোটের নাম ‘ইন্ডিয়া’ প্রস্তাব করেন। এরপর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শারদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে, মেহবুবা মুফতিরা সমর্থন করেন মমতার প্রস্তাব।
শেষ বক্তা রাহুল জানান, তৃণমূল নেত্রী যে নাম প্রস্তাব করেছেন তাতে তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী জোটের নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বেঙ্গালুরুর বৈঠকে ছিলেন তিনিও। বস্তুত বিরোধী জোটের বৈঠক ঘিরে সোমবার রাত থেকেই নানা নতুন সমীকরণের খণ্ডচিত্র দেখছিল পাটনা। মঙ্গলবারের দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে আবার প্রমাণ হলো সেই পুরোনো আপ্তবাক্যের সারবত্তা—‘পলিটিক্স মেক্স স্ট্রেঞ্জ বেডফেলোজ’, বাংলায় যার অর্থ, ‘রাজনীতি বিচিত্র সঙ্গী তৈরি করে!’
সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোটের নাম নিয়ে দ্বিতীয় বক্তা মমতা বললেন, ‘পারলে আমাদের হারাও।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এনডিএ কি পারবে ‘ইন্ডিয়া’ (বিরোধীদের নয়া জোট)-কে চ্যালেঞ্জ করতে?
একই সুরে পঞ্চম বক্তা রাহুল বললেন, ‘যখনই কেউ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে লড়েছে, হেরে গেছে।’
ঘটনাচক্রে মঙ্গলবারই দিল্লির অশোক হোটেলে ছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র বৈঠক। বিজেপির আয়োজনে ৩৮টি রাজনৈতিক দলের ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধী জোটকে আক্রমণ করে বলেছেন, ‘ওটা তো দুর্নীতি এবং পরিবারতন্ত্রের জোট।’
ঘটনাচক্রে পেছনেই তখন বসা ছিলেন সেচ প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি রুপি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপিপ্রধান শারদ পাওয়ারের বিদ্রোহী ভাইপো অজিত পাওয়ার।
২৩ জুন পাটনায় বিরোধী জোটের প্রথম বৈঠক হয়েছিল। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে হলো দ্বিতীয় বৈঠক।
সংবাদ সম্মেলনের প্রথম বক্তা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে জানিয়েছেন, পরবর্তী বৈঠক হবে মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ে। অর্থাৎ এই প্রথম বিজেপি জোট শাসিত কোনো রাজ্যে বিরোধীদের বৈঠক হবে।
ঘটনাচক্রে ওই রাজ্যেই উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং শারদের এনসিপিকে ভেঙে এনডিএ’র কলেবর বৃদ্ধি করেছে বিজেপি।
নাম বদল হলেও নয়া জোটের চেয়ারপারসন বা আহ্বায়ক পদ আপাতত ঘোষণা করা হয়নি বেঙ্গালুরুতে। মুম্বাইয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে বিরোধী জোটের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে মঙ্গলবার।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস