প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১৫:০৭ পিএম
ডেলয়েটের জরিপ দেখাচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রিক সেবা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে মানুষ। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের এক চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ চ্যাটজিপিটির
মতো জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে। এ ছাড়া কাজের জন্য এ ধরনের এআই
ব্যবহার করেন ৪০ লাখ ব্রিটিশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে চালানো অ্যাকাউন্টিং
গ্রুপ ডেলয়েটের চালানো এক জরিপে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে।
অথচ অ্যামাজনের অ্যালিক্সার মতো ভয়েস-সহায়ক স্মার্ট স্পিকারগুলোর
ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের ১ জন যুক্তরাজ্যবাসী দিনে অন্তত একবার সেগুলো ব্যবহার
করেন।
ডেলয়েট বলেছে, ১৬ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ মানুষ জেনারেটিভ
এআই টুল ব্যবহার করেছে। যুক্তরাজ্যের ৪ হাজার ১৫০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এ জরিপে অংশ
নিয়েছিল। যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষই জেনারেটিভ এআই সম্পর্কে অবগত এবং প্রতি ১০ জনের
১ জন কাজের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করেন।
যদি সংখ্যায় বিচার করা হয় তাহলে যে চিত্রটি ফুটে ওঠে, তা হলো জেনারেটিভ
এআই যুক্তরাজ্যের ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ব্যবহার করেছেন। আর কাজের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি
ব্যবহার করেন দেশটির ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ।
জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন ব্রিটিশের মধ্যে ৪ জন মনে করেন
জেনারেটিভ এআই সবসময়ই বাস্তবসম্মতভাবে সঠিক উত্তর প্রদান করে। যদিও বাস্তবতা হলো, জেনারেটিভ
এআইয়ের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো, প্রায়ই এটি ভুল তথ্য প্রদান করে।
অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠানটি একজন অংশীদার পল বি বলেছেন, যেকোনো প্রযুক্তির
ক্ষেত্রে এত দ্রুত ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি যে কোনো উদীয়মান প্রযুক্তির জন্যই বিরল
ঘটনা।
সাধারণত জেনারেটিভ এআই বলতে বোঝায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নির্ভর একটি
বৃহৎ ভাষা মডেল। যা যে কোনো প্রশ্নের বিপরীতে বাস্তবসম্মত উত্তর প্রদানের চেষ্টা করে।
এপ্রযুক্তিকে ডাটার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করতে হয়। যত বেশি সংখ্যক নির্ভরযোগ্য ডাটা ব্যবহার
করা হয়, এটি তত ভাল আউটপুট দেয়। তবে ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে এ প্রযুক্তি
নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারে।
গতবছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নির্ভর কোম্পানি ওপেনএআই টেক্সটের
মাধ্যমে কথোপকথনে সক্ষম ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ‘চ্যাটজিপিটি’ উন্মুক্ত
করলে প্রযুক্তিজগতে তা ব্যাপক সাড়া জাগায়। পরে কোম্পানিটি চ্যাটজিপিটির আরও সক্ষম ভার্সন
জিপিটি-৪ উন্মুক্ত করে। এরই মধ্যে তারা মাইক্রোসফট কর্পোরেশন থেকে বড় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতায় এরই মধ্যে সামিল হয়েছে টেক
জায়ান্ট গুগল। অনলাইনে তারা বার্ড উন্মুক্ত করেছে। ইলন মাস্কও এক্সআই নামের নতুন কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি নিয়ে এসেছে। পরিশেষে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় টিকে
থাকতে হয়, অবশ্যই গ্রাহক টানতে হবে।
তবে ডেলয়েটের নতুন এই জরিপ দেখাচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রিক
সেবা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে মানুষ। এক অর্থে প্রতিযোগিতায় থাকা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর
জন্য এটি ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান