প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৬ পিএম
দিল্লির বন্যা পরিস্থিতির চিত্র। ছবি : সংগৃহীত
প্রবল বর্ষণের কারণে মারাত্মক বন্যার সাথে লড়াই করছে ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লি।
যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ায় হরিয়ানার হথনি কুন্ড ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ার ফলে দিল্লির বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
রবিবার (১৬ জুলাই) সকালে জাতীয় রাজধানীতে বেশ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক যানজট এবং জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
আইটিও এবং রাজঘাটসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর রাস্তা ছিল পানির নিচে।
শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুপ্রিমকোর্টের কাছের এলাকাগুলো থেকে পানি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন।
সন্ধ্যায় বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও যমুনার পানির স্তর আপাতত নিম্নমুখী বলে জানা গেছে।
রবিবার সকাল ৬টায় যমুনার পানির স্তর ২০৬.১৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে যমুনা বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
নদীটির পানির স্তর ২০৮.৬৬ মিটারে পৌঁছেছিল, যা ১৯৭৮ সালের ২০৭.৪৯ মিটারের উচ্চতাকে অতিক্রম করেছে।
রাস্তাঘাট নদীতে পরিণত হওয়ার পরেও কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
মানুষ, কুকুর ও গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে সেখানে।
দুটি টাস্কফোর্স মিরাট থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
যমুনার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রবিবার সকালে চন্দ্রওয়ালের পানি শোধনাগারটি চালু হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া ওয়াজিরাবাদ প্ল্যান্টটিও খোলার চেষ্টা চলছে। ওখলার তৃতীয় ওয়াটার প্ল্যান্ট শনিবার আবার চালু হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার নদীর পানির উচ্চতা বাড়লে তিনটি প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আশ্বস্ত করেছেন যে, বন্যার পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করার জন্য যমুনা ব্যারাজের পাঁচটি গেট খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আইটিও ব্যারাজের প্রথম জ্যামড গেট খোলা হয়েছে। শিগগিরই পাঁচটি গেট খুলে দেওয়া হবে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার সন্ধ্যায় দুটি দেশ সফর থেকে ফিরে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাক্সেনা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সব রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
দিল্লির স্থানীয় সরকার যানজট ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪ হাজার ৫শ ট্রাফিককর্মী মোতায়েন করেছে।
নগরীর চার সীমান্ত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়া ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় সরকারি অফিস, স্কুল ও কলেজ রবিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি