প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১১:২৫ এএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৪:৫৯ পিএম
স্পেনের মাদ্রিদের বাসিন্দাদের সহ্য করতে হচ্ছে তীব্র গরম। ছবি : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সারা বিশ্বেই জনজীবনে নেতিবাচক ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। গবেষকরা বলছেন, চলতি সপ্তাহেই আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ার অনেক দেশেরই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে অনেক দেশই রেড এলার্ট জারি করেছে।
ভয়াবহ সময় পার করছে উত্তর আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, তারা শঙ্কা প্রকাশ করছে যে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাস পর্যন্ত একটি শক্তিশালী তাপপ্রবাহ পুরো সপ্তাহব্যাপীই বইবে। এ সময় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি হবে।
এদিকে দেশটির অ্যারিজোনা রাজ্যের রাজধানী ফিনিক্সে গত ১৬ দিন ধরে প্রতিদিনই ১০৯ ফারেনহাইটের (৪৩ ডিগ্রি) ওপর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার ১১১ ফারেনহাইট স্পর্শ করেছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ জায়গা ক্যালিফোর্নিয়ার মরু অঞ্চল ডেথভ্যালিতে রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্পর্শ করতে পারে। শনিবারই সেখানকার তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্পর্শ করেছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বাসিন্দারা যাতে দিনের বেলা বাইরের কার্যকলাপ এড়িয়ে চলে এবং ডিহাইড্রেশন থেকে সতর্ক থাকে।
শুধু তা-ই নয়, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াকে অসংখ্য দাবানল মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানকার ৩ হাজার একরেরও বেশি জমির বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
টেক্সাসের বাইরে হিউস্টনের একটি নির্মাণ সাইটে ২৮ বছর বয়সি এক শ্রমিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি যখন পানি পান করি। তখন আমার মাথা ঘুরে এবং বমি আসে।’
লাস ভেগাসের আবহাওয়া বিভাগও সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে তাপমাত্রার বিষয়ে। তারা জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ মরুভূমির তাপ নয়।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ কানাডাও গরমে কাবু হয়ে গেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, এই বছরে দাবানলের ঘটনা সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে ১ কোটি হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে মারা গেছেন দমকলকর্মীও। অথচ দেশটিতে চূড়ান্ত গ্রীষ্ম এখনও আসেইনি।
ইউরোপের বিভিন্ন শহরে রেড এলার্ট
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইস্যুতে রোম, বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্সসহ ১৬টি শহরের জন্য ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্র গ্রীষ্মের সবচেয়ে তীব্র ও সর্বকালের অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
ইতালির আবহাওয়া কেন্দ্র বলছে, রাজধানী রোমে সোমবারের মধ্যেই তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্পর্শ করতে পারে। এমনকি মঙ্গলবার তা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়াতে পারে। যেখানে সবশেষ ২০০৭ সালের আগস্টে রোমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা বলছে, সিসিলি ও সার্ডিনিয়া দ্বীপপুঞ্জে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করতে পারে। আর এমনটা হলে এটিই হবে ইউরোপে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ তাপমাত্রা।
এদিকে গ্রিস উষ্ণ তাপমাত্রার কথা চিন্তা করে অ্যাথেন্স অ্যাক্রোপলিসের মতো পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে।
ফ্রান্সের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সৃষ্টি হওয়া খরা কৃষিশিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্যানুসারে মঙ্গলবার থেকে দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্পেনের আবহাওয়া দপ্তর শনিবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে দেশটির ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ আন্দালুসিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জ্বলছে ও ডুবছে এশিয়া
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জেরে জাপানের অনেক এলাকার তাপমাত্রা রবি ও সোমবার ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করবে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।
ভারতে রেকর্ড গরমের পর এবার বর্ষার তীব্র বর্ষণে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত ও নিখোঁজ আরও অনেকে। দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং মেগাসিটির অনেক নিচু এলাকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গরম ও বর্ষণ উভয়ে নাজেহাল এশিয়ার আরেক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় সেখানে মারা গেছেন ২৬ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন দেশটির জরুরি বিভাগের কর্মী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সূর্যের খরতাপে পানি একেবারে কমে গেছে ইরাকের বিখ্যাত টাইগ্রিস নদীর। গরম থেকে বাঁচতে নদীতে সাঁতার কাটারও সুযোগ নেই নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের। ৩৭ বছর বয়সি এক ইরাকি এএফপিকে বলেছেন, ‘প্রতিবছরই পানির পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় খারাপ হচ্ছে।’
প্রতিবেশী দেশ জর্ডানও দেখেছে দাবানল।
যদিও জলবায়ু পরিবর্তনে একটি নির্দিষ্ট আবহাওয়ার ঘটনাকে দায়ী করা কঠিন। এর পরও গবেষকরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। দেরি হওয়ার আগেই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমাতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ তাদের।
সূত্র : এনডিটিভি