২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৩ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৩ ১৬:১১ পিএম
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার শিশুদের একটা দল। ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর। ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২৮৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের শুক্রবারের (১৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনিসেফের স্থানান্তর এবং স্থানচ্যুতি বিভাগের প্রধান ভেরেনা কনৌজ শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাতের কারণে এসব শিশু স্বদেশ ছেড়ে ইউরোপে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল। উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে আশ্রয় নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু ইউরোপের নেতাদের অনাগ্রহের কারণে তাদের অবৈধপথে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করতে হয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাড়ি দিতে হয় ভূমধ্যসাগর।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১১ হাজার শিশু আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে প্রবেশ করেছে, যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সাধারণত লিবিয়া বা তিউনিসিয়া উপকূল থেকে যাত্রা করে। অধিকাংশই মধ্য-ভূমধ্যসাগর রুট ধরে ইউরোপে আসতে চেষ্টা করে। ছোট নৌকায় করে দালালরা তাদের ইউরোপে আসার ব্যবস্থা করে। এ জন্য প্রতিজনকে গুনতে হয় প্রায় সাত হাজার ডলার।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যেসব শিশু আফ্রিকা থেকে ইউরোপে এসেছে, তাদের প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনের সঙ্গে কোনো অভিভাবক ছিল না। এ কারণে আসার পথে তাদের নানা ধরনের নিপীড়ন ও নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে। অনেকে ধর্ষণেরও শিকার হয়েছে।
কনৌজ মনে করেন, ইউরোপ মনোযোগী হলে এতগুলো শিশুকে সাগরে প্রাণ দিতে হতো না। অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আরও নিরাপদে ইউরোপে আসতে পারত। অথচ এত শিশুর প্রাণহানির পরও ইউরোপের নেতারা নির্বিকার।
সূত্র : আলজাজিরা