প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
পাকিস্তানে ফিরে গেলে হত্যার শিকার হতে পারেন বলে মনে করছেন সীমা হায়দার। ছবি : সংগৃহীত
পাবজি খেলতে গিয়ে প্রেমের টানে দেশত্যাগী পাকিস্তানি নারী সীমা হায়দারকে
ফিরিয়ে না দিলে ভারতে ২০০৮ এর ২৬/১১ এর মতো হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (১২ জুলাই) মুম্বাই পুলিশের ট্রাফিক রুমে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি
ফোন করে এই হুমকি দিয়েছিল।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফোনকারী উর্দুতে কথা বলছিলেন এবং
বলেছিলেন, হামলার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারই
দায়ী থাকবে।
মুম্বাই পুলিশ হুমকি দেওয়া ফোনকলটি এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করছে এবং
ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দলও এতে যোগ দিয়েছে। কলটি একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে করা
হয়েছিল, পুলিশ এর আইপি ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এর আগে সীমা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ফেরতে যাওয়ার থেকে তিনি মৃত্যুকে
বেছে নেবেন। এরই মধ্যে তিনি হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং ভারতীয় স্বামীর সঙ্গে বসবাসের
অনুমতি চেয়েছেন।
করোনাভাইরাস মহামারি চলার সময় মোবাইলে জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেয়ার ব্যাটল
রয়েল গেম ‘পাবজি মোবাইল’ খেলতে
গিয়ে ভারতীয় তরুণ শচীনের সঙ্গে পরিচয় হয় সীমার। সীমার বয়স ৩০ বছর ও শচীনের বয়স ২৫। গত মার্চে নেপালে তারা বিয়ে
করেন। সেটিই ছিল তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।
এরপর তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং শচীন ভারতে ফিরে যান। দেশে ফিরে
তিনি ১২ লাখ রুপিতে পাকিস্তানে নিজের প্লট বিক্রি করেন ও ৪ সন্তান নিয়ে নেপালের ভিসা
জোগাড় করেন।
মে মাসে তিনি আবারও দুবাই হয়ে নেপালের পোখারায় আসেন। সেখানে তিনি
ও শচীন বেশ কিছুটা সময় কাটান। পরে কাঠমান্ডু থেকে তিনি দিল্লির বাসে ওঠেন। পরে গ্রেটার
নয়াডায় শচীন তার পাকিস্তানি পরিচয় গোপন রেখে একটি ভাড়া বাড়ির ব্যবস্থা করেন। পরে পুলিশ
তাদের আটক করে।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এখন সীমা ভারতে থেকে যাওয়ার জন্য তার কাগজপত্র
তৈরিতে মনোনিবেশ করতে পারবেন, যেহেতু তার স্বামী একজন ভারতীয়।
সৌদি আরব থেকে ভিডিওবার্তায় সীমার স্বামী গোলাম হায়দার ভারত সরকারের কাছে তার স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে সাহায্য চেয়েছেন। তবে সীমা সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি গোলাম হায়দারের কাছে ফিরে যেতে চান না। পাকিস্তানে ফিরে গেলে তার জীবনের প্রতি হুমকিও রয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি