প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৩ ১২:০২ পিএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩ ১২:২১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। ছবি : বিবিসির প্রতিবেদন থেকে নেওয়া
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলা ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বলে মনে করে না যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এ কথা বলেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অন্য কোনো দেশ যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা সেটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করি না। এ ধরনের আলোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ এটা আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।’
মি. মিলার এ মন্তব্য এমন এক সময়ে করেছেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (১১ জুলাই) ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডার-সেক্রেটারি উজরা জেয়া ও সহকারী সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু ১১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে এ সফরকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে যেসব তৎপরতা দেখা যাচ্ছে সেগুলো নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং সরকারের দিক থেকে প্রকাশ্যে ‘অসন্তুষ্টি’ প্রকাশ করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইটারে এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো যে তৎপরতা দেখাচ্ছে সেটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে '‘নগ্ন হস্তক্ষেপের’ শামিল।
আরও পড়ুন: উজরা জেয়ার ভারত সফরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব
সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংবাদ সম্মেলনে একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে আগ্রহ দেখাচ্ছে তাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে রাশিয়া, চীন ও ইরান। গত সপ্তাহে রাশিয়া ও চীন এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্কে এর সমালোচনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মন্তব্য জানতে চান তিনি।
জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অন্যদের কেন আপত্তি থাকবে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে তার প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যক্ত করেছেন। ৫০ বছরের বেশি সময় যাবৎ বাংলাদেশের বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে আমরা উভয়েই এ আকাঙ্ক্ষা ব্যক্তি করি।’
মি. মিলার বলেন, বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের বিপরীতে আরেকটি রাজনৈতিক দলকে তারা সমর্থন করেন না। বরং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমর্থন করে ওয়াশিংটন।
উজরা জেয়া ও ডোনাল্ড লুর সফরে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ সফরে তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, মানব পাচার এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে।
মি. মিলার জানান, এ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সঙ্গেও বৈঠক করবে। সেখানে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা, সুশাসন ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা