প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৩ ১৩:০২ পিএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩ ১৪:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিকে শনিবারের (৮ জুলাই) এ কর্মসূচিতে অংশ নেন দুই হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী।
এর আগে প্যারিসের শহরতলি নান্টেরেতে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অমান্যের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সি নাহেল এম গুলিতে মারা গেলে সহিংসতা শুরু হয়। সেই সহিংসতার রেশ কাটিয়ে উঠলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনও বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহের মাথায় পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজপথে নামে প্যারিসের বাসিন্দারা। তারা বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একজন স্বাস্থ্যকর্মী ফেলিক্স বোভারেল। তিনি বলেন, আমরা এখনও ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা উপভোগ করি। তবে সমাবেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে রয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর মার্সেই এবং পূর্বে স্ট্রাসবার্গসহ দেশজুড়ে পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি বিক্ষোভ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানান, এক সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া দাঙ্গার ছয় রাতের মধ্যে তিন সহস্রাধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী।
এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২০১৬ সালে ফ্রান্সে পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি অ্যাডামা ট্রোরের পরিবার এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। টুইটারে পোস্ট করে অ্যাডামার বড় বোন আসা ট্রাওরে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে ফ্রান্সে পুলিশ কর্তৃক সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে আফ্রিকান ও আরব বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে অত্যধিক শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্যবিরোধী কমিটি সিইআরডি এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের জন্য ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁসহ দেশটির রাজনীতিবিদরা অবশ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের কথা অস্বীকার করেছেন।
ফ্রান্সের অতি ডানপন্থি দলগুলোর দাবি, ২০০৫ সালের পর দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ এই সহিসংতার সঙ্গে গণঅভিবাসনের যোগসূত্র রয়েছে।