প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৫:০৬ পিএম
মণিপুরে সহিংসতার চিত্র। ছবি : সংগৃহীত
ফের রক্ত ঝরল ভারতের রাজ্য মণিপুরে। শুক্রবার (৭ জুলাই) ফের সহিংসতা শুরু হওয়ায় ওই রাজ্যে নতুন করে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবারের সহিংসতায় এক পুলিশ কমান্ডোরও মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২৭ জনে।
জানা গেছে, শুক্রবার একটি ঘটনায় চূড়াচাঁদপুর এবং বিষ্ণুপুর জেলার সীমানায় দুই গোষ্ঠী একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।
চূড়াচাঁদপুরের এসপি কার্তিক মালাডি জানান, রাত দেড়টা নাগাদ দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ওই গুলির লড়াই শুরু হয়।
জানা গেছে, এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর অধীনে থাকা একটি গ্রামে হামলা চালায় অপর এক গোষ্ঠী। এরপর কয়েক ঘণ্টা ওই গুলির লড়াই চলতে থাকে।
পরে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুজন মারা যান এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন আহত হন।
এদিকে, অপর এক ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে এক নাবালকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিষ্ণুপুর জেলায়।
জানা গেছে, ফউবাকচো এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করেছিল। সেই সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে গিয়েই ওই নাবালকের মৃত্যু হয়।
মোইরাং টুরেল মাপান এলাকায় অন্য এক ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে মৃত্যু হয় এক পুলিশ কমান্ডোর। সব মিলিয়ে একদিনে ওই রাজ্যে জাতিগত সহিংসতার বলি হয়েছেন ৪ জন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সে রাজ্যে স্কুল খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার দিকেই এগোচ্ছিল। তবে বিক্ষিপ্তভাবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে ওই রাজ্যে। এর আগে একটি স্কুলের সামনে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল এক নারীর।
গত ৩ মে থেকে জাতিগত সহিংসতার সাক্ষী মণিপুর। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চূড়াচাঁদপুর, মোরে, কাকচিং ও কাংপোকপি জেলার অধিকাংশ মানুষকে সরানো হয়েছে।
ইম্ফল উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো মৈতৈ জনজাতি। তবে তারা সম্প্রতি দাবি তুলেছে তাদের তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দিতে হবে। তাদের এ দাবির প্রতি বিরোধ জানিয়েছে স্থানীয় আদিবাসীরা।
এ অবস্থার মধ্যে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মণিপুরের অল ট্রাইবাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল। সেই মিছিল ঘিরেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চূড়াচাঁদপুর জেলায়।
এদিকে তফসিলি উপজাতির ইস্যুর পাশাপাশি সংরক্ষিত জমি এবং সার্ভে নিয়েও উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যটিতে। এ আবহে গত এপ্রিলে এ চূড়াচাঁদপুর জেলাতেই মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের সভাস্থলে আগুন দিয়েছিল ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরামের সদস্যরা।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে