প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৪:০৬ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৪:১১ পিএম
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলছেন জো বাইডেন। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সুরক্ষা এবং তাইওয়ান ইস্যুতে বিগত কয়েক মাস ধরেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
তবে এর মাঝেই সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। সেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
এর মাঝেই জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেই কথোপকথনের বিষয়ে সংবাদ চ্যানেল সিএনএনের সামনে মুখ খোলেন বাইডেন।
বাইডেন দাবি করেন, জিনপিংকে তিনি সাবধান হতে বলেছেন।
সিএনএনকে বাইডেন বলেন, 'আমি জিনপিংকে বলেছি, আপনাকে হুমকি দিচ্ছি না। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আপনি সাবধানে থাকুন।'
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জিনপিং। সেই প্রেক্ষিতেই চীনের প্রেসিডেন্টকে সাবধান হওয়ার 'পরামর্শ' দিয়েছিলেন বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলেই জিনপিংকে রাশিয়ার সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখা নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেন বাইডেন।
এই ইস্যুতে বাইডেন বলেন, ‘রাশিয়া যেদিন থেকে ইউক্রেনের ওপর হামলা করেছে, সেদিনই ৬০০ মার্কিন সংস্থা মস্কো থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। আমি জিনপিংকে বলেছি, আপনি নিজেই আমাকে জানিয়েছেন যে, আপনার দেশের অর্থনীতি অনেকটাই ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাবধান থাকুন।'
বাইডেন দাবি করেন, ‘জিনপিং মন দিয়ে আমার কথা শুনেছেন। তিনি এ নিয়ে আমার সঙ্গে তর্ক করেননি। আর এরপর থেকে তিনি রাশিয়াকে পূর্ণ সমর্থন দেননি। তাই হয়তো আমরা এই ইস্যুতে এগিয়ে যেতে পারব।’
এর আগে গত জুন মাসে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ৩৫ মিনিটের বৈঠক করেন অ্যান্টনি ব্লিনকেন। নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব মেটানোর লক্ষ্যেই ব্লিনকেনের এই সফর।
বিশ্বের দুই সর্ববৃহৎ অর্থনীতির পারস্পরিক দ্বন্দ্ব যে, তাদের নিজেদের জন্য ভালো নয়, সেটাও ভালো করেই জানে বেইজিং ও ওয়াশিংটন। তবে এরই মাঝে তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চরম দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে।
এদিকে কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চীনা 'গুপ্তচর বেলুন' দেখা গিয়েছিল। সেই বেলুনগুলোকে ধ্বংস করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল ওয়াশিংটন। এমনকি কানাডার আকাশেও এ ধরনের বেলুন দেখা গেলে সেটাও ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয় চীনের। তবে ক্রমেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
সূত্র : এনডিটিভি