প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৬:১২ পিএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৬:২৭ পিএম
তেজস্ক্রিয় দূষিত পানি ফেললে সাগরের প্রাণবৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাক্টিভিস্টরা। ছবি : সংগৃহীত
ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের দূষিত তেজস্ক্রিয় পানি আগামী মাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলবে জাপান। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) দুই বছরের পর্যবেক্ষণ শেষে মঙ্গলবার এ অনুমোদন দেয়। কিন্তু এটা পরিবেশের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপানের স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও এবং প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া।
২০১১ সালের সুনামিতে বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র। এরপর কেন্দ্রটির চুল্লিগুলো ঠান্ডা করার জন্য প্রতিদিন বিপুল পানি ব্যবহার করা হয়। এসব দূষিত পানি এক হাজারের বেশি বড় বড় ট্যাংকে জমা করে রাখা হয়েছে। এসব ট্যাংকে ১৩ লাখ টনের বেশি দূষিত তেজস্ক্রিয় পানি রয়েছে। আগামী ৩০ বছরে অল্প অল্প করে এসব অতিমাত্রায় দূষিত পানি প্যাসিফিক সাগরে ফেলা হবে।
বিবিসি জানায়, এসব পারমাণবিক দূষিত পানি সাগরে ফেললে তা পরিবেশ বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাপানের বিভিন্ন এনজিও। তাদের শঙ্কা, এতে করে জাপানের মাছ ধরা ও সি-ফুড শিল্প বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ মানুষ তখন এসব মাছ ও খাবার খেতে চাইবে না।
প্রায় একই অভিযোগে প্রতিবেশী দেশ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াও প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক দূষিত পানি ফেলার বিরোধিতা করেছে। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) জাপানকে তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলার অনুমতি দেওয়ায় আইএইএর সমালোচনা করেছে চীন। সিদ্ধান্তটি একচোখা বলে মন্তব্য করেছে দেশটি। তা ছাড়া জাপান প্রশান্ত মহাসাগরকে নিজেদের প্রাইভেট নর্দমায় পরিণত করেছে বলেও মন্তব্য করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি।
কিছু বিজ্ঞানীও তেজস্ক্রিয় দূষিত পানি সাগরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটা সাগরের বেড ও প্রাণবৈচিত্র্যে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে আরও গবেষণা করা দরকার।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দলও এসব বহুল আলোচিত দূষিত পানি সাগরে ফেলার পক্ষে মত দেয়নি।
তবে আইএইএপ্রধান রাফায়েল গ্রসি মঙ্গলবার বলেন, ’অনেক পরীক্ষা করে আমরা এই অনুমতি দিয়েছি। এসব পানি সাগরে ফেলতে মানুষ ও পরিবেশের সামান্য ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে এটা এত সামান্য যে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপান সরকারও শুরু থেকে একই কথা বলছে।
সূত্র : বিবিসি