প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৫:২২ পিএম
প্রতীকী ছবি
দেউলিয়া দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে আগেই হাত বাড়িয়েছিল বিশ্বব্যাংক।
সেই সহযোগিতার অংশ হিসাবেই মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিশ্বব্যাংক প্রথম ধাপে শ্রীলঙ্কাকে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কা সরকার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ব ব্যাংক গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে, তারা ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কার জন্য ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট এবং কল্যাণ সহায়তা অনুমোদন করেছে।
১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারতের দক্ষিণের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।
শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী শেহান সেমাসিংহে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আনন্দিত যে, বিশ্বব্যাংক থেকে বাজেট সহায়তার জন্য ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রথম ধাপে বিতরণ করেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অবশিষ্ট ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক সংকটের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হবে।
২০২২ সালের এপ্রিলে যখন অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয়, তখন ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দ্বীপরাষ্ট্রটি রান্নার গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে সক্ষম হয়।
শ্রীলঙ্কার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারিস হাদাদ জারভোস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাংক চাইছে প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কাঠামোগত সংস্কার এবং দরিদ্রদের সুরক্ষার উপর দৃষ্টিনিবদ্ধ করতে।’
বাস্তবে কেবল মাত্র শ্রীলঙ্কা নয়, প্রথম বিশ্ব থেকে তৃতীয় বিশ্ব, প্রতিটি দেশই কমবেশি অর্থনৈতিক সংকটে আছে।
বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটকে আরও তরান্বিত করেছে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি।
বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঘাটতির কারণে শ্রীলঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। দেশটির অর্থনীতি মহামারি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি জীবনযাত্রার ব্যয়কে অস্বাভাবিক করে তুলেছে। একারণেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২২ সালে, যা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারকে উৎখাত করেছিল।
সূত্র : রয়টার্স