প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৬:০৪ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৬:৩১ পিএম
সিগন্যালিং মেরামতিতে ত্রুটি থাকার কারণেই ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ছবি : সংগৃহীত
সিগন্যাল বিভ্রান্তির কারণেই যে ভারতের বালাসোর জেলায় করমণ্ডল দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে কখনোই সংশয় ছিল না। তবে কী কারণে এই সিগন্যালিংয়ে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছিল।
অবশেষে রেলের ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিগন্যালিং মেরামতিতে ত্রুটি থাকার কারণেই ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে এবং করমণ্ডল দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে—এই দুবার সিগন্যালিংয়ের মেরামতিতে ত্রুটি ছিল। এর জেরেই যাত্রীবাহী করমণ্ডল এক্সপ্রেসটি লুপ লাইনে ঢুকে মালগাড়িকে ধাক্কা মারে এবং পরে হামসফর এক্সপ্রেসের ধাক্কায় এতসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়।
রেলওয়ের নিরাপত্তা কমিশনার এএম চৌধুরী নিজের রিপোর্টে দাবি করেছেন, বিভিন্ন স্তরে সিগন্যালিংয়ের ত্রুটির কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন দপ্তরের কিছু ভুলের কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাই যান্ত্রিক গোলযোগ হলেও তা মানুষের ভুলেই হয়েছিল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালে খড়গপুর ডিভিশনের বাঁকড়ানয়াবাজ স্টেশনে একই ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছিল সিগন্যালিংয়ে। যার জেরে ভুল ট্র্যাকে ঢুকে পড়েছিল ট্রেন।
এদিকে এই প্রতিবেদন সিবিআইকে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি খতিয়ে দেখবে যে ওই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না।
গত ২ জুন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ বালাসোর জেলার বাহানগা বাজার রেলস্টেশনের কাছে আপ শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন উঠে যায় এক মালগাড়ির ওপর। ট্রেনের অধিকাংশ বগি ছিটকে পড়ে পাশের লাইনে।
এ সময় উল্টো দিক থেকে আসা যশবন্তপুর-হাওড়া হামসফর এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে করমণ্ডলের লাইনচ্যুত বগিগুলোতে।
এর আগে এ দুর্ঘটনা নিয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল সিআরএস।
প্রাথমিক ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিগন্যালিং কন্ট্রোল রুমের ভিডিওতে দেখা গেছে, ভুল লাইনে ঢুকে পড়ে আপ ১২৮৪১ শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এই মারাত্মক ভুলের কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এই লুপ লাইনে করমণ্ডল এক্সপ্রেস না ঢুকলেই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এই পরিস্থিতিতে অটোমেটিক ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল না বলে দাবি উঠেছিল।
পাশাপাশি জেনেবুঝেই ম্যানুয়ালি এই ব্যবস্থাকে বাইপাস করা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছিল।
তবে সিআরএস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবারের ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস