এসসিও শীর্ষ সম্মেলন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৫:২৫ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৫:৪০ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বাঁয়ে) ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আজ মঙ্গলবার, ৪ জুলাই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলন হবে অনলাইনে। এতে অন্য সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বক্তৃতা দেবেন।
নিজ দেশে প্রাইভেট সামরিক বাহিনী ওয়াগনারের বিদ্রোহের পর আজই আন্তর্জাতিক কোনো ফোরামে কথা বলবেন পুতিন। এতে করে পুতিন নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার বড় সুযোগ পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
বিবিসি জানায়, জুনের শেষে ওয়াগনারের বিদ্রোহ পুতিনের ক্ষমতাকাঠামোর ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার দ্যুতি কিছুটা কমেছে। কিন্তু এসসিওর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ফোরামে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে ও বিদেশে নিজের অবস্থান সংহত করার সুযোগ পাচ্ছেন পুতিন।
২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। এশিয়ায় পশ্চিমা প্রভাব কমাতেই এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৭ ভারত ও পাকিস্তান এতে যোগ দেয়।
নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভারতে চলতি বছর জি ২০-এর শীর্ষ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের পর এসসিওর শীর্ষ সম্মেলন বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এসসিওর বাকি সদস্যদের মতো ভারতও রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার সরাসরি কোনো নিন্দা করেনি। বরং ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের বিভিন্ন ভোটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। এটা পশ্চিমাদের বিরক্ত করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতকে কাছে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলো।
সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে নানা চুক্তি করেছেন নরেন্দ্র মোদি। এসবের মধ্যে কিছু প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক চুক্তি অন্যতম।
অন্যদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়া থেকেই সংগ্রহ করে। তা ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সস্তায় বিপুল রুশ জ্বালানি কিনেছে ভারত। অর্থাৎ ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে চির বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীনকেও শক্ত হাতে সামলাতে ভারতের রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কে দরকার। কাজটি ভারত সুচারুভাবেই করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এবারের সম্মেলনে ইরানও এসসিওর পূর্ণ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নাখোশ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। কিন্তু ভারত নানা কৌশলে তা প্রশমিত করছে।
সূত্র : বিবিসি