প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৩ ১২:১২ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৩ ১২:৩৩ পিএম
রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নেপালি তরুণদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন বিদেশিরাও। বিদেশি তরুণদের সেনাবাহিনীতে কাজে লাগানোর জন্য টোপ দিয়েছে রাশিয়া।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেই টোপ গিলেছেন নেপালিরাও। নেপাল থেকে গত এক বছরে অনেকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন।
নেপালের সংবাদমাধ্যম নেপাল প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার লক্ষ্যেই শত শত নেপালি যুবক পুতিনের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। পুতিনের হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন তারা।
দ্য ডিপ্লোম্যাট এক রিপোর্টে জানিয়েছে, বিদেশি যুবকদের যুদ্ধে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিশেষ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন।
রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে এক বছর যুদ্ধ করলেই সপরিবারে রাশিয়ায় থাকার সুযোগ মিলবে। রাশিয়ার স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন ওই বিদেশি সেনারা। সঙ্গে রয়েছে মোটা অঙ্কের বেতনের হাতছানিও।
নেপালের মতো ছোট দেশের তরুণ প্রজন্ম রাশিয়ায় এই নিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি এড়াতে পারেননি। অনেকেই তাই দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় চলে গিয়েছেন।
আবার রাশিয়ায় অবস্থিত নেপালি পড়ুয়ারাও সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন নাগরিকত্বের লোভে।
রাশিয়ার বাহিনীতে যোগ দেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেপালি যুবক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণের সময়েও যা বেতন তিনি পেয়েছেন, তা নেপালের সাধারণ সরকারি চাকরির বেতনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
যুদ্ধে প্রাণের ঝুঁকি আছে ঠিকই, কিন্তু নেপালে থেকে স্বল্প পারিশ্রমিকে বা বেকার হিসেবে জীবন কাটানোর চেয়ে এই ঝুঁকি অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে গেলে ভাষা একটি বড় সমস্যা হয়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তা-ও হয়নি। নেপালি তরুণরা জানিয়েছেন, প্রথম দিকে রাশিয়ান ভাষা শিখতে বলা হলেও পরে সেই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু ইংরেজি জানলেই রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া যাচ্ছে।
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে শামিল হয়েছে প্রিগোজিনের ভাড়াটে সেনাবাহিনী ওয়াগনার। অনেকের মতে, নেপালি তরুণরা কেউ কেউ এই ওয়াগনারেও যোগ দিয়েছেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন তারাই।
তবে রাশিয়ার বাহিনীতে যোগ দিয়ে যে সবারই ভাগ্য বদলেছে, তা কিন্তু নয়।
তার প্রমাণ নরেন্দ্র শ্রেষ্ঠা নামের একজন তরুণ নেপালি ছাত্র, যিনি কয়েক মাস আগে রাশিয়ার বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। শ্রেষ্ঠা তার ছয় নেপালি ছাত্র বন্ধুর সঙ্গে রুশ বাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।
রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদান করে প্রশিক্ষণের পর ইউক্রেনের যুদ্ধ অঞ্চলে মোতায়েন হওয়ার পরে নরেন্দ্র তার জন্য অপেক্ষা করা অপরিমেয় কষ্টগুলো উপলব্ধি করতে শুরু করেছিলেন।
তার সহকর্মী নেপালি বন্ধুদের সঙ্গে এক আন্তরিক কথোপকথনে তিনি অকপটে তার উদ্বেগগুলো শেয়ার করেছেন এবং রাশিয়ার বাহিনীতে যোগদানের সঙ্গে জড়িত অন্তর্নিহিত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাদের সতর্ক করেন।
তিনি বলেছেন, ‘নেপালিদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদানের চিন্তা করা উচিত নয়। এটি আমাদের জীবনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে যদি আমাদের ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কারণ আমার ছাত্র ভিসার তিন মাসের মধ্যে মেয়াদ শেষ হচ্ছিল এবং আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। সে সময় আমার কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু আমি সবাইকে অনুরোধ করছি সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না।’
তবে রাশিয়ায় অবস্থিত নেপালি দূতাবাস জানিয়েছে, নেপালিদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদানের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। যদি কেউ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েও থাকে, তবে দূতাবাসকে জানিয়ে করেনি।
সূত্র : খবরহাব