প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫৮ এএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৫৩ পিএম
পাঁচ বছর আগে মিয়ানমারে নৃশংস সামরিক অভিযানে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ছড়াতে ভূমিকা রাখায় ফেসবুকের মাতৃপ্রতিষ্ঠান মেটাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লন্ডনভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটা তাদের ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়। ২০১২ সালের শুরুর দিকে মিয়ানমারের অধিকারকর্মীরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর ঠিক পাঁচ বছর পরেই দেশটিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণ চালায় দেশটির সামরিক বাহিনী। যার কারণে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে যায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে।
নৃশংস এ দমনপীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার তদন্ত চলছে। যেখানে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে সামরিক বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড জানান, সামরিক বাহিনীর বর্বরতা চালানোর সময়ে ফেসবুক অ্যালগারিদম অতিমাত্রায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের ওপর নির্যাতনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, সে সময় একদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল, অন্যদিকে মেটা তার অ্যালগারিদমের মাধ্যমে উগ্রপন্থি বিষয়বস্তু ছড়িয়ে মুনাফা অর্জন করছিল। তাই মেটাকে এখন এর দায় নিতে হবে। তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য যারা সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি মেটা।
এর আগেও জাতিসংঘের তদন্তকারী দল দাবি তুলেছিল রোহিঙ্গাদের ওপর যে সহিংসতা হয়েছিল তাতে ফেসবুক নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এমন বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মেটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ১৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
২২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী শওকুতারা বলেন, ‘ফেসবুককে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদি তারা না করে তবে আমরা বিশ্বের প্রতিটি আদালতে যাব। আমরা আমাদের সংগ্রামে কখনও হাল ছাড়ব না।’
প্রবা/এনএস/এইচকে/এমজে/