× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভারত কেন ‘সিনথেটিক হীরা’ খাতে

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১০:২৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাইডেন দম্পতিকে সিনথেটিক হীরা উপহার দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফটো সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাইডেন দম্পতিকে সিনথেটিক হীরা উপহার দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফটো সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনকে একাধিক উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভবত কৃত্রিমভাবে গবেষণাগারে তৈরি ৭.৫ ক্যারেটের এক হীরা। এগুলো ল্যাব গ্রোন ডায়ামন্ড বা এলিজিডি নামে পরিচিত। 

ভারত সিনথেটিক বিকল্পের খাতে বৈশ্বিক নেতা হতে চাইছে। এলজিডি তারই কেন্দ্রে রয়েছে। খনি থেকে সংগৃহীত হীরার চেয়ে এর কার্বন ফুটপ্রিন্ট কম এবং এগুলো ‘দ্বন্দ্বমুক্ত’ হিসেবে পরিচিত। 

ইন্ডিয়া টুডের বরাত দিয়ে টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, বাইডেন দম্পতিকে যে হীরা উপহার দেওয়া হয়েছে তার প্রতি ক্যারেট উৎপাদনের জন্য মাত্র ০.০২৮ গ্রাম কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। প্রচলিত উপায়ে খনি থেকে আহরণ করা হীরাতে এর তুলনায় এক লাখ গুণ বেশি কার্বন নিঃসরিত হয়।

এলজিডি বা গবেষণাগারে তৈরি হীরাতে আসল হীরার মতো একই রাসায়নিক উপাদান থাকে, এতেও নিখাদ কার্বন আটকা পড়ে। প্রকৃতিতে যখন কার্বন ভূগর্ভে মজুদ থাকে, তখন হীরা তৈরি হয়। সাধারণত পৃষ্ঠ থেকে ৯৫-১২৫ মাইল নিচে হয় এর অবস্থান। প্রবল চাপ এবং তাপে গঠিত হয় হীরা। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে হীরা তৈরি হতে ১০০ কোটিরও বেশি বছর সময় লাগে। অন্যদিকে গবেষণাগারে এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে হয়। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক জুয়েলার কুইনস্মিথের তথ্যানুসারে, দুইভাবে এলজিডি তৈরি করা যায়। প্রথম পন্থাটি পরিচিত কেমিক্যাল ভেপর ডিপোজিশন (সিভিডি) নামে। এ প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই গঠিত ছোট হীরার প্রয়োজন পড়ে। হীরার ওই টুকরা একটি চেম্বারে রেখে, সেটিকে কার্বনসমৃদ্ধ গ্যাস এবং উচ্চ তাপমাত্রার সম্মুখীন করা হয়। কয়েক সপ্তাহ সময় পার হওয়ার পর কার্বন গ্যাস স্থুলাণুতে পরিণত হয় এবং আসল হীরার টুকরোর সঙ্গে লেগে থাকে। এতে করে হীরার আকার বৃদ্ধি পায় এবং নতুন হীরা সামগ্রী তৈরি হয়।

দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটি পরিচিত হাই প্রেশার হাই টেমপারেচার মেথড (এইচপিএইচটি) নামে। এ পন্থায় আগে থেকে বিদ্যমান কোনো হীরার প্রয়োজন পড়ে না। মূলত এ প্রক্রিয়ায় ধাতব একটি কিউবের মধ্য দিয়ে নিখাদ কার্বন পার করানো হয় এবং একই সময়ে উচ্চ বৈদ্যুতিক তাপ দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে যেভাবে হীরা তৈরি হয়, সে প্রক্রিয়াটিরই অনুকরণ এটি।

কেন ভারত এলজিডি কর্মসূচিতে হাত দিচ্ছে   

২০১৮ থেকে ২০২১ সাল সময়ের মধ্যে ভারতের সিনথেটিক হীরা বিক্রি প্রায় চারগুণ হয়েছে, হীরার বিক্রি ২৭ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১২৯ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। চলতি বছর ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমন ঘোষণা দেন যে দেশটির সরকার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউস অব টেকনোলজিকে পাঁচ বছর অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে এলজিডি শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়নে ভর্তুকি দেবে। 

সিতারমন বলেন, উচ্চ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাময় একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী খাত হলো গবেষণাগারে তৈরি হীরা। এই পরিবেশবান্ধব হীরাগুলোতে দৃশ্যত এবং রাসায়নিকভাবে প্রাকৃতিক হীরার উপাদানই রয়েছে।

ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বের ১৫ শতাংশ এলজিডি তৈরি হয় ভারতে। এ তালিকার প্রথমে রয়েছে চীন, পুরো বৈশ্বিক বাজারের ৫০ শতাংশই দেশটির দখলে।

অ্যালাইড মার্কেট রিসার্চের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে এ শিল্পের মূল্যমান ছিল ২ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। আগামী দশক নাগাদ এটি দ্বিগুণের চেয়েও বেশি বেড়ে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন এলজিডি গুরুত্বপূর্ণ 

হীরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। শুধু যে অলঙ্কার বা গয়না হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়, তা নয়। বিশ্বের ৮০ শতাংশ হীরা শিল্প খাতে ব্যবহৃত হয়। হীরা অত্যন্ত শক্ত উপাদান হওয়ায় এটিকে প্রায়ই ইলেকট্রনিকসে ব্যবহার করা হয় যাতে তা দীর্ঘ সময় টেকে, যেমনÑ উচ্চমানের স্পিকার বা স্যাটেলাইট। দাঁতের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও হীরা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবীতে এমন উপাদান খুব কমই আছে যা দিয়ে সহজে দাঁতে ছিদ্র করা যায়।

খনি থেকে আহরিত হীরার চেয়ে এলজিডি দামে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সস্তা। এগুলোর উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক শ্রমের ওপর কম নির্ভর করে এবং খনি থেকে আহরণের সময় প্রাকৃতিক আবাসস্থলেরও ক্ষতি করে না। সূত্র : টাইম 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা