প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩ ১৮:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩ ১৯:৪৯ পিএম
সুলেমান দাউদ ও তার বাবা পাকিস্তানের ধনকুবের শাহজাদা দাউদ। ছবি : সংগৃহীত
টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে সাবমেরিনে করে যাওয়ার আগে ১৯ বছর বয়সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুলেমান দাউদ দ্বিধা প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ফুফু আজমেহ দাউদ। তিনি জানান, সুলেমান পানির গভীরে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন এনবিসির একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আজমেহ দাউদ পাকিস্তানের ধনকুবের ও টাইটান সাবমেরিনের যাত্রী শাহজাদা দাউদের বড় বোন।
তিনি বলেন, 'আমার ভাইয়ের ছেলে সুলেমান দাউদ আমাদের এক আত্মীয়কে জানিয়েছিল, সে এ অভিযানের জন্য প্রস্তুত না। সে আরও বলেছিল, এ ভ্রমণ নিয়ে বেশ আতঙ্কিত বোধ করছে সে।'
আজমেহ দাউদ জানান, সুলেমান তার বাবাকে খুশি করার জন্য সেখানে যায়। কারণ তার বাবা টাইটানিক সম্পর্কে অনেক বেশি উৎসাহী ছিলেন। এ ছাড়া সে সপ্তাহে ছিল বাবা দিবস। তাই আর না করতে পারেনি।
উদ্ধারকারীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের কেপ কড থেকে ৯০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে অবস্থিত সমুদ্রতলে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ এলাকায় অভিযানে যাওয়ার সময় সাবমার্সিবল সাবমেরিনটি রবিবার (১৮ জুন) যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের আশপাশে টাইটানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সমুদ্রতলে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ জাহাজের সাবমার্সিবল সাবমেরিনটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ওশানগেট এক্সপিডিশনের সিইও স্টকটন রাশ জানান, ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হার্ডিং, অ্যাকশন অ্যাভিয়েশনের মালিক ফরাসি ডুব বিশেষজ্ঞ পল হেনরি নারজিওলেট, পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমানকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাঁচ আরোহী নিয়ে রবিবার আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল টাইটান নামের সাবমেরিনটি। তাদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের অন্যতম ধনী ব্যক্তি শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান দাউদ।
সাবমেরিনটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সমুদ্রের তলদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চার দিন মহাসাগরের তলদেশে ব্যাপক তল্লাশির পর বৃহস্পতিবার সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানান উদ্ধারকারীরা।