প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ১৩:৪৯ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১৪:৩২ পিএম
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বাখমুতের কাছের একটি ফ্রন্ট লাইন থেকে রাশিয়ার অবস্থানের দিকে রকেট নিক্ষেপ করছে। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ আকাঙ্ক্ষিত গতির চেয়ে ধীর হলেও এ বিষয়ে ইউক্রেন বাহিনীকে চাপ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রাশিয়া বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন ইউক্রেন বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে ধীর করে দিচ্ছে বলে বুধবার (২১ জুন) যুক্তরাজ্যের বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন জেলেনস্কি।
তিনি দাবি করেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সীমান্ত অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ বর্গকিলোমিটার জায়গা রাশিয়ার ল্যান্ড মাইন দ্বারা পরিপূর্ণ।
জেরেনস্কি বলেন, ‘যে কারণে ওই এলাকার মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’
জেলেনস্কি বিবিসিকে আরও বলেন, ‘কিছু মানুষ মনে করে যে, এই যুদ্ধ হলিউডের সিনেমা। তাই তারা এখনই ফলাফল আশা করছে। কিন্তু, এটা সত্যিকার যুদ্ধ, হলিউডের সিনেমা নয়।’
ইউক্রেনীয় বাহিনী কর্তৃক নিজ দেশের দক্ষিণ এবং পূর্বে আটটি গ্রাম পুনরুদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন ততক্ষণ কখনোই আলোচনায় বসবে না, যতক্ষণ রাশিয়া বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে থাকবে।’
লন্ডনে একটি সম্মেলনের ইউক্রেনের মিত্ররা বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ও পুনর্গঠন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় বিবিসিকে ওই সাক্ষাত্কারটি দেন জেলেনস্কি।
বুধবার (২১ জুন) টেলিভিশনে প্রচারিত মন্তব্যে পুতিন বলেছিলেন, ‘কিয়েভ এই মাসের শুরুর দিকে রাশিয়া বাহিনীর দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার জন্য পাল্টা আক্রমণ শুরুর পর থেকে গুরুতর সামরিক ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছে এবং ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে ‘নিস্তব্ধতা’ লক্ষ্য করেছে মস্কো।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের বিপরীতে বুধবার রাশিয়ান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের অগ্রগতি সম্পর্কে মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন মস্কোর ভাড়াটে সেনা গ্রুপ ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন।
প্রিগোজিন বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে এলাকা হারাচ্ছে মস্কো এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সত্য লুকিয়ে রাখছেন। তারা রাশিয়ার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।’
তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি গ্রাম হারিয়েছে মস্কো এবং রাশিয়ার সেনারা অস্ত্র ও গোলাবারুদের অভাবে ভুগছে।’
ওয়াগনার প্রধান বলেন, ‘এসব খবর সবার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া একদিন জেগে উঠে আবিষ্কার করবে যে, ক্রিমিয়াও ইউক্রেনের হাতে চলে গেছে।’
সামরিক বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে, কিয়েভের বড় পাল্টা আক্রমণাত্মক অভিযান এখনও শুরু হয়নি।
ওয়াশিংটন, ডিসিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ‘ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের সাফল্যকে প্রতিদিনের পরিবর্তনের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়।’
বুধবার গভীর রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘ইউক্রেন বাহিনী দেশের দক্ষিণে শত্রুকে ধ্বংস করছে এবং অগ্রগতি লাভ করছে। পূর্বেও আমাদের প্রতিরক্ষা দৃঢ় হচ্ছে।’
সূত্র : আলজাজিরা