× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাঠ্যপুস্তক থেকে নাম প্রত্যাহার করতে চাইছেন ভারতীয় পণ্ডিতরা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৩ ২২:৪৪ পিএম

আপডেট : ২১ জুন ২০২৩ ২২:৪৭ পিএম

পাঠ্যপুস্তক থেকে নাম প্রত্যাহার করতে চাইছেন ভারতীয় পণ্ডিতরা

পাঠ্যপুস্তকের মালিক আসলে কে? ভারতে এই প্রশ্নটি এখন সবার মুখে মুখে। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক থেকে কিছু কিছু বিষয় মুছে ফেলার বিষয়ে খবর প্রচারের পর স্কুলে শিশুদের আসলে কী কী পড়ানো উচিত, তা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে তুমুল বিতর্ক।

কিন্তু পাঠ্যপুস্তকগুলো নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) এসব বই প্রকাশ করেছে এবং ইতোমধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি স্কুলে তা পড়ানো হচ্ছে। এনসিইআরটি হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। সরকার পরিচালিত সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের অধীনে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম পরিবর্তন এবং পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর তত্ত্বাবধান করাই হচ্ছে এই সংস্থার দায়িত্ব।

পাঠ্যপুস্তক থেকে যেসব বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে চরম হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের হাতে ভারতের জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর প্রাণনাশের প্রচেষ্টার অনুচ্ছেদ এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা এবং বহু ভারতের সামাজিক বৈচিত্র্যের মতো অধ্যায়।

এনসিইআরটি ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা সম্পর্কিত বিষয়বস্তুগুলো পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিয়েছে এবং বাদ দিয়েছে ভারতে মুঘল শাসকদের ওপর একটি অধ্যায়। রসায়নের পিরিওডিক টেবিল বা পর্যায় সারণি এবং বিজ্ঞান বইয়ের বিবর্তন তত্ত্বের অংশগুলোকে ওপরের ক্লাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এসব পরিবর্তন জন্ম দিয়েছে প্রবল সমালোচনার।

পাঠ্যসূচির ‘যৌক্তিকীকরণ’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয় গত বছর। কিন্তু এখন কিছু শিক্ষাবিদ, যারা পুরোনো পাঠ্যপুস্তক পরিকল্পনা ও প্রকাশের ওপর সরকারি কমিটির অংশ ছিলেন, তারা বলছেন নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তারা আর যুক্ত থাকতে চান না।

গত ৮ জুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুহাস পালশিকার ও ইউগেন্দ্র ইয়াদভ, যারা নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০০৬ সালে প্রকাশিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইগুলোর উপদেষ্টা ছিলেন, তারা এনসিইআরটিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, বইগুলোর ছাপা ও ডিজিটাল সংস্করণ থেকে তাদের নাম যেন মুছে ফেলা হয়।

তারা বলছেন, পাঠ্যপুস্তকে অসংখ্য অযৌক্তিক কাটছাঁট এবং বড় বড় অংশ মুছে ফেলা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে, কারণ এসব পরিবর্তনের পেছনে তারা কোনো শিক্ষাগত যুক্তি দেখতে পাচ্ছেন না।

এই নিয়ে এনসিইআরটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার ‘প্রশ্নই ওঠে না।’ কারণ সব পাঠ্যপুস্তকের কপিরাইট অধিকার এই সংস্থার। 

এ নিয়ে অচলাবস্থা আরও তীব্র হয় গত সপ্তাহে যখন ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষাবিদ তালিকাভুক্ত পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন কমিটি (টিডিসি) থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের জন্য এনসিইআরটিকে অনুরোধ জানান। এসব শিক্ষাবিদ যুক্তি দেখান যে, কপিরাইট থাকলেও তাদের লেখা পাঠ্যপুস্তকে কোনো পরিবর্তন করার অধিকার এনসিইআরটির নেই।

কিন্তু এনসিইআরটি বলছে, টিডিসির ভূমিকা ‘কীভাবে পাঠ্যপুস্তকগুলো ডিজাইন করা হবে এবং মুদ্রণ করা হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এর বেশি নয়।’

সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পরিবর্তিত বিষয়বস্তু শুধু বর্তমান শিক্ষাবর্ষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে এবং নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশিকাগুলোর ওপর ভিত্তি করে শিগগিরই স্কুল পাঠ্যপুস্তকের একটি নতুন সেট তৈরি করা হবে।

এনসিইআরটির এই বক্তব্যের পর শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছে। সমালোচকরা যুক্তি দিচ্ছেন, পাঠ্যপুস্তককে আত্মদর্শনের একটি উৎস হিসেবে দেখা উচিত এবং এনসিইআরটির বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করছেন, যে অংশগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হিন্দু জাতীয়তাবাদী শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির পছন্দ নয়।

গত সপ্তাহে কমিটি থেকে তার নাম প্রত্যাহারের আবেদন করা পিটার রোনাল্ড ডিসুজা বলেন, ‘যৌক্তিকীকরণের সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করছে যে এনসিইআরটি তার স্বায়ত্তশাসনকে মূল্য দেয় না কিংবা এর নেতৃত্ব গণতন্ত্রের মধ্যে নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন নয়।’

তবে পাঠ্যসূচির এসব পরিবর্তন নিয়ে এনসিইআরটিকে সমর্থন করেও বক্তব্য এসেছে। গত সপ্তাহে ৭৩ শিক্ষাবিদ এক যুক্ত বিবৃতিতে যুক্তি দেখান যে, স্কুলের পাঠ্যপুস্তকগুলোকে হালনাগাদ করা খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সমালোচকরা যা দাবি করছেন তা হলো হালনাগাদ করা। পাঠ্যপুস্তকের বদলে ছাত্ররা যেন এখনও ১৭ বছরের পুরনো পাঠ্যপুস্তক দিয়েই লেখাপড়া চালিয়ে যায়। নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে এরা সারা দেশে কোটি কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করতেও প্রস্তুত।’

পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তনকে যারা সমর্থন করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নামকরা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রধান এবং ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রধান।

জেএনইউর ভাইস চ্যান্সেলর সন্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিত লিখেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপারটি কঠোর তথ্য-প্রমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত এসব যাচাই-বাছাইয়ের প্রশংসা করা উচিত। পছন্দমতো অংশকে তুলে ধরা এবং ভুলভাবে উপস্থাপন করা স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার জন্ম দেয় না, বরং সেটিকে দুর্বল করে। সংবাদমাধ্যম এই বিষয়টিতে অনেক ভুল তথ্য তুলে ধরছে।’ সূত্র : বিবিসি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা