প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৩ ২২:৩৪ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র গতকাল বুধবার বলেছে, তারা মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও দেশটির জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রিত দুই ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। ওই ব্যাংক দুটির মাধ্যমে জান্তা সরকার বিদেশের বাজার থেকে অস্ত্রসহ অন্যান্য উপকরণ কেনার জন্য লেনদেন করে থাকে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসামরিক নেতা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নে তিন হাজার ৬০০ এরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
সন্ত্রাস ও আর্থিক গোয়েন্দা বিষয়ক ট্রেজারি আন্ডার সেক্রেটারি ব্রায়ান নেলসন বলেছেন, ‘বার্মার জান্তা সরকার সহিংসতা ও নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ওই দুই ব্যাংক অস্ত্র ও উপকরণ আমদানি সুবিধা দিয়েছে।’
মিয়ানমারের সাবেক নাম (বার্মা) ব্যবহার করে তিনি এক বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আমরা বার্মার জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব এবং চলমান নৃশংসতাকে স্থায়ী করতে জান্তা সরকারের প্রচেষ্টাগুলোকে বাধাগ্রস্ত করব।’
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছে।
ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ওই মন্ত্রণালয় অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক উপাদান আমদানি অব্যাহত রেখেছে। তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার সংস্থাগুলো থেকেও আমদানি করছে এবং মস্কোকে রাজস্ব প্রদান করছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ব্যাংক দুটি হলো মিয়ানমার ফরেন ট্রেড ব্যাংক এবং মিয়ানমার ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক।
ব্যাঙ্কগুলো ‘প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের কাজ করে’ এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে অফশোর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেয়। পাশাপাশি বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও সহজে লেনদেন করতে সহায়তা করে।
মিয়ানমার সংকট সমাধানে প্রয়োজন নতুন পদ্ধতি
জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ গতকাল বলেছেন, জান্তা শাসিত মিয়ানমারের সংকট সমাধানের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, কারণ এটি কাজ করছে না। ১০ সদস্যের অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট নেশনস (আসিয়ান) ব্লকের প্রচেষ্টা সংকট প্রশমিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দুই বছর আগে সম্মত হওয়া পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুস আসিয়ান সদস্যদের কাছে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি মিয়ানমারের সঙ্কট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিন্দুতে পৌঁছেছে এবং সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে এখনই। অবশ্যই পরিবর্তন অপরিহার্য। এই পরিবর্তনের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে এবং আমি মনে করি সেই নেতৃত্ব দেওয়ার পরিস্থিতিতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া।’ সূত্র : এএফপি