প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ২০:৪২ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩ ২১:২৪ পিএম
ইউক্রেনের বুচা শহরে আফ্রিকার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এই শহরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে একটি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার (১৬ জুন) কিয়েভ পৌঁছেছেন আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নেতারা। কিয়েভে তাদের অবস্থানকালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কিয়েভ সফর শেষে শনিবার আফ্রিকার নেতারা সেন্ট পিটার্সবুর্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আফ্রিকার প্রতিনিধিদলটি ইউক্রেনের বহুল আলোচিত বুচা শহর পরিদর্শনের মাধ্যমে কিয়েভ সফর শুরু করেছেন। কিয়েভের অদূরে এ শহরে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
বুচা থেকে কিয়েভে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের রাজধানীতে অনেকগুলো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসি, গার্ডিয়ান ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যমে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, তাদের সদস্যরা রাশিয়ার ছয়টি কিনজাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
তবে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, বিস্ফোরণের শব্দ তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা বিভাগের কারণেই হয়েছে।
অর্থাৎ আফ্রিকার নেতাদের কিয়েভ সফরের মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানীতে রুশ হামলা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে রাশিয়া কিছু বলেনি।
আফ্রিকার প্রতিনিধিদলে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, জাম্বিয়া, সেনেগাল, উগান্ডা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও কোমোরো দ্বীপপুঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন।
আফ্রিকার প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে কিয়েভের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা পরবর্তীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
কিয়েভের শীর্ষ কর্মকর্তারা আফ্রিকার প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, যেকোনো ধরনের মীমাংসা তাদের শর্ত অনুযায়ী হতে হবে। তা ছাড়া তারা এ মুহূর্তে কোনো ধরনের আলোচনার কথা ভাবছেন না। কারণ তারা ইতোমধ্যে বড় ধরনের পাল্টা হামলা শুরু করেছেন।
এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে পুতিন বলেছেন, রাশিয়া এখনও যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তাদের সব দরজা খোলা রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে চরম খাদ্য ও শস্য সংকটে পড়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। কারণ যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণ সাগর হয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্যবাহী জাহাজ ঠিকমতো আফ্রিকাসহ বিশ্বের গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না।
সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, গার্ডিয়ান