প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ১৪:১৪ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৩ ১৪:২৯ পিএম
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার জন্য হেরাতে অপেক্ষারত আফগান নারীরা (ফাইল ফটো)। ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) একটি প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে নিন্দা করেছে তালেবান।
ওই প্রতিবেদনে আফগান প্রশাসনকে ‘অত্যন্ত বর্জনীয়’ এবং ‘দমনমূলক’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।
ইউএনএসসির বিশ্লেষণাত্মক সহায়তা এবং নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল দ্বারা জুনের শুরুতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তালেবান শাসনকাঠামো অত্যন্ত বর্জনীয়। তাদের শাসনে দমনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি রয়ে গেছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মূলনীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং আফগানিস্তানে আর্থিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সঙ্গে লড়াই করছে তালেবান।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান ক্ষমতার লড়াই পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। কারণ, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রাদুর্ভাব একটি সুস্পষ্ট ঝুঁকি।
এদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তালেবান বলেছে, ‘এটি ভিত্তিহীন এবং আফগানদের প্রতি স্পষ্ট শত্রুতা প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তারা আরও বলেছে, ‘নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ আফগানিস্তান এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে সাহায্য করে না, বরং এটি আফগানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়।’
২০২১ সালের আগস্টে দেশটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তালেবান মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং নারীর অধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসারিত করেছে।
মেয়েদের জন্য উচ্চ বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করেছে। তালেবান কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে লিঙ্গ বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার জন্য একটি অবকাঠামো পরিবর্তন করার পরে স্কুলগুলো খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
গোষ্ঠীটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মসংস্থান থেকে নারীদের নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের অধিকার খর্ব করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা ও কাজ থেকে নারী ও মেয়েদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ তালেবানপ্রধানের ঘাঁটি কান্দাহার থেকে জারি করা হয়েছিল।
তবে, দেশটির বেশ কিছু তালেবান নেতা নারীর ক্ষমতায়নকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘ইসলাম নারীদের শিক্ষা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করে।’
তালেবান কর্মকর্তারা তাদের নেতৃত্বের মধ্যে ফাটল থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
প্রতিবেদনে তালেবান নেতা আখুনজাদাকে ‘বিচ্ছিন্ন এবং অধরা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি সভা করার সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিস্তৃত ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিক্ষা খাত থেকে সমস্ত বিদেশি সংস্থাকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রধান মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বৃহস্পতিবার বলেছেন, আফগান জনগণের জন্য এটি আরেকটি ‘ভয়াবহ পদক্ষেপ।’
শিক্ষায় এনজিওর পদক্ষেপ নিয়ে তালেবান এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবানদের দখলে নেওয়ার পর অর্থনৈতিক পতনের পরিপ্রেক্ষিতে সাহায্য সংস্থাগুলো আফগানদের খাদ্য, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদান করছে।
সূত্র : আলজাজিরা