প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৩ ১৯:১৮ পিএম
‘বার্ন’ প্রজাতির পেঁচা। ছবি : সংগৃহীত
চাষের জমি রক্ষার দায়িত্বে পেঁচা! কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে সাইপ্রাসের এই বিরল উদাহরণ।
আর তাই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
ওই প্রতিবেদন অনুসারে, একসময় ইঁদুরের তাণ্ডবে প্রাণ ওষ্ঠাগত হতো সাইপ্রাসের কৃষকের। সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হতো তাদের, যাদের জমির বিস্তার রয়েছে রিপাবলিক অব সাইপ্রাস এবং রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসের মধ্যবর্তী নো-ম্যান্স-ল্যান্ড অঞ্চল পর্যন্ত।
কারণ সব সময় সীমান্ত পেরিয়ে জমির ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারতেন না তারা। এদিকে ইঁদুর এসে নষ্ট করে যেত ফসলের এক বিরাট অংশ।
এ সমস্যার মোকাবিলা করতে এগিয়ে আসে ‘বার্ডলাইফ’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
দুই সীমান্তের মধ্যবর্তী ওই এলাকায় বিভিন্ন গাছের ডালে পেঁচাদের থাকার মতো প্রায় ৫০টি কাঠের বাক্স বসায় তারা।
একই সঙ্গে কৃষককে ইঁদুর মারার বিষের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
এর পরিবর্তে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বটি পেঁচাদের ওপরই ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানায় কর্তৃপক্ষ।
প্রায় এক দশক ধরে চলছে এ অভিযান; যার ভিত্তিতে বার্ডলাইফেরই করা এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বছরে কম করে হলেও ৫ হাজার ইঁদুর মারে ওই অঞ্চলে চাষের জমির আশপাশে বাসা বাঁধা পেঁচারা।
বিশেষত ‘বার্ন’ প্রজাতির পেঁচাদেরই দেখা মেলে সেখানে। ইউরোপজুড়ে যাদের সংখ্যা কমে আসায় একসময় চিন্তায় পড়েছিলেন পরিবেশবিদরা।
গমের ক্ষেতের মাঝে দাঁড়িয়ে কৃষক ক্রিস্টোডোলোস ক্রিস্টোডৌলু বলেন, ‘এখন আমি বিশ্রাম নিতে পারি। আমাদের গ্রাম ইঁদুর আর ইঁদুরে পরিপূর্ণ ছিল। তারা আমাদের ফসল খেয়ে ফেলত, আমাদের টায়ারে ছিঁড়ে ফেলত। তারপর আমরা পেঁচার জন্য বাক্সগুলো স্থাপন করি। এখন আর ইঁদুরের সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইঁদুর দমনে পেঁচার কৃতিত্ব আমার কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো! পেঁচার কারণে আমাদের জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে হচ্ছে না।’
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট