প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৫১ পিএম
টাইফুন নোরুর তাণ্ডবে ভেসে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপিন্সে টাইফুন নোরুতে মারা গেছেন পাঁচ উদ্ধারকর্মী। রাজধানী ম্যানিলার উত্তরে সান মিগুয়েল জেলায় উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় আকস্মিক বন্যায় তারা ভেসে যান।
বিবিসি জানিয়েছে, টাইফুনের তাণ্ডবে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।
টাইফুন নোরুতে সান মিগুয়েল জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে পানি বেড়ে যাওয়ায় কিছু বাসিন্দাকে ছাদে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। কিছু মানুষকে বুকসমান ময়লা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা যায়।
টাইফুনটি ফিলিপিন্সের জনবহুল এলাকা লুজনের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আকারে বয়ে যায়। দেশটির ১১ কোটির জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি লুজন অঞ্চলে বসবাস করে।
নোরু টাইফুনটি স্থানীয়ভাবে কারদিং নামে পরিচিত। প্রথমে সুপার টাইফুন হিসেবে এটি আঘাত হানে। কিন্তু পরে রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টা ২০ মিনিটের দিকে টাইফুনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এটি ফিলিপিন্স ছেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সান মিগুয়েলের একটি গ্রাম সান ভিনসেন্টে এক ব্যক্তিকে তার দরজা থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আরেকজন তার বাড়ির ছাদের উপরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, দেশের নেতাদের ‘জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে মনোনিবেশ করা’ দরকার।
টাইফুনের গতিপথ থেকে ৭৪ হাজারেরও বেশি লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার আগে কর্মকর্তারা রাজধানী ম্যানিলার এলাকাগুলোতে ‘গুরুতর বন্যার’ সতর্কতা জারি করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রাণীটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন এক নারী
সোমবার একটি ব্রিফিংয়ে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, আমি মনে করি অন্তত এবারের মতো আমরা বেঁচে গেছি। গত দুই দিনে আমরা যা যা প্রস্তুতি নিয়েছি, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ম্যানিলার পূর্বে কেজন প্রদেশে জেলেদের সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। সেখানে অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। ফ্লাইট ও ফেরি সার্ভিস বাতিল করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র লুজনে সব সরকারি কাজ স্থগিত করেছেন এবং স্কুলে ক্লাস বাতিল করেছেন।
ম্যানিলার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিঙ্গালান শহরের বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
রাজধানী ম্যানিলায় একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র
প্রশান্ত মহাসাগরের সাত হাজারেরও বেশি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ হলো ফিলিপিন্স। যে কারণে এটি ঝড়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে টাইফুন রাই যখন দেশটিতে আঘাত হানে তখন আনুমানিক ৪০০ মানুষ নিহত হন।
প্রবা/এনএস/ এসআর