প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৩ ১২:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৩ ১৩:৩৬ পিএম
২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মান্দালেতে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ করছেন মিয়ানমারের আইনজীবীরা। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারে রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে আইনি লড়াই করা আইনজীবীরা জান্তা পরিচালিত আদালতে সামরিক কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানি, এমনকি কারাভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভয় দেখিয়ে অনেককে মামলা নেওয়া বন্ধ করতে বাধ্য করাও হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জুন) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির ৩৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছরের বেশি সময় আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকার দেশটিকে অশান্তিতে নিমজ্জিত করেছে এবং তারা ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়ে কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেতা অং সান সু চি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বিরোধীদের গলা টিপে ধরতে আদালতকে ব্যবহার করে। রুদ্ধদ্বার আদালতে দেওয়া সাজায় তারা কারাগারে রয়েছেন।
১৯ আইনজীবীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এইচআরডব্লিউর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অপরাধের বিচারে জান্তা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘বিশেষ আদালতে’ কর্মরত প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা কর্তৃপক্ষের হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকির সম্মুখীন হন।
ইয়াঙ্গুনভিত্তিক এক আইনজীবী ‘ওয়াচডগ’কে বলেন, ‘আদালতে এখন আমাকে সত্য বলার পরিবর্তে নিজের আটক না হওয়ার বিষয়ে চিন্তা করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে সবাই জানে আমি কে, জান্তা আমাকে যেকোনো সময় গ্রেফতার করতে পারে এবং তারা চাইলেই যেকোনো কারণ তৈরি করতে পারে।’
অ্যাটর্নি ইয়েট নু অংয়ের মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানায়, আদালতে শুনানি করে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। তিনি একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।
জান্তাবিরোধী মিলিশিয়াদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে সাহায্য করার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয় এবং পরে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার শুনানির আগে আইনজীবীদের নিয়মিতভাবে মক্কেলদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে বাধা দেওয়া হয়।
অন্য এক আইনজীবী বলেন, ‘কখনও কখনও মামলার জেরাও করা সম্ভব হয় না।’
সূত্র : এইচআরডব্লিউ