প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৩ ১৪:৪০ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩ ১৫:০৮ পিএম
ইরনাতে প্রদর্শিত ইরানের তৈরি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : সংগৃহীত
ইরান তার প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাত্তাহ’ উন্মোচন করেছে।
দেশটি দাবি করেছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা
ব্যবস্থা ভেদ করতে পারে। যদিও এর পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে তারা এখনও কিছু জানায়নি। এর
আগে ইরান পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের রেপ্লিকাও প্রদর্শন করেছিল। বাস্তবে তার অস্তিত্ব
পাওয়া যায়নি।
নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ফাত্তাহ রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। যার অর্থ ‘যে শুরু করে’। ইরানের দাবি
যদি সত্যি হয়, তবে এটিই হতে যাচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট।
মঙ্গলবার (৬ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা নিউজ এজেন্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করেছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের সিনিয়র কমান্ডাররা।
ইরনা নিউজ এজেন্সি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্রটি
ম্যাক ১৫ (৫ হাজার ১৪৫ মিটার বা ১৬ হাজার ৮৮০ ফুট প্রতি সেকেন্ডে) গতিতে চলতে পারে
এবং এর অপারেশনার রেঞ্জ ১ হাজার ৪০০ মিটার।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির জনক হিসেবে পরিচিত হাসান তেহরানি মোগাদ্দেমের মৃত্যুবার্ষিকী
উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের খবর ঘোষণা করেছিলেন।
২০১১ সালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হওয়া বিস্ফোরণে মারা যান হাসান
তেহরানি। সে বিস্ফোরণে আরও অনেক আইআরজিসি সদস্য মারা যায়। বিস্ফোরণটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে
বলা হলেও কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম সে সময় জানিয়েছিল, এর পেছনে ইসরায়েলের হাত রয়েছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বা তার চেয়েও
বেশি গতির হয়ে থাকে। ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডারের জন্য এটি শনাক্ত
করা কঠিন। এটি খুবই স্পর্শকাতর ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি। খুব কম সংখ্যক দেশের কাছেই
তা রয়েছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে মাত্র ৪টি দেশ-- যুক্তরাষ্ট্র,
রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে একমাত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনে
চলমান সামরিক অভিযানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কিনজাল’ ব্যবহার করে
দেশটি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বরাবরই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে ইসরাইল
ও পশ্চিমা শক্তি। পশ্চিমা দেশগুলো আগেও বলেছিল, দেশটির ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ওয়ারহেড
হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র বসানো যেতে পারে। যদিও ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করেছে। একই
সঙ্গে তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্রকে
তাদের প্রতিরক্ষার প্রধান রক্ষাকবচ মনে করে।