প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৩ ২২:১১ পিএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৩ ২২:২০ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে পৃথিবীর পৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত, অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ নাটকীয়ভাবে শীতল হয়ে আসছে। একই গ্যাস নিম্নভাগের কয়েক মাইলের বাতাসকে উষ্ণ করছে, আবার ওপরের দিকে মহাকাশের প্রান্ত পর্যন্তও ঠাণ্ডা করছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অবশ্য অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলেন যে, এ রকমটি হতে পারে। তবে এতদিন এ ব্যাপারে শক্তপোক্ত কোনো প্রমাণ তাদের হাতে ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইট সেন্সরের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে বিষয়টি। নতুন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসার পাশাপাশি এটি অন্যান্য প্রশ্নও তুলছে।
জলবায়ুবিজ্ঞানীদের জন্য সুসংবাদটি হলো, গবেষণার নতুন এই তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, পৃষ্ঠ উষ্ণতার পেছনে মানুষের হাত রয়েছে বলে তারা যে রায় দিয়েছিলেন, তা আদতেও সত্যি।
সাম্প্রতিক সময়ের আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগকে ইগনোরোস্ফিয়ার হিসেবে অভিহিত করতেন। কারণ তারা এ ব্যাপারে অত্যন্ত কম জানতেন। কিন্তু এখন তারা এ বিষয়ে জানতে শুরু করেছেন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বেশ কয়েকটি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে যে অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, সেটি হলো ট্রপোস্ফিয়ার। এখানেই আবহাওয়ার বেশিরভাগ কর্মকাণ্ড হয়। জলবায়ু পরিবর্তনকে সব সময় বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিম্নভাগের প্রেক্ষাপটেই ভাবা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবার সময় এসেছে।
নাসা ল্যাংলে রিসার্চ সেন্টারের মার্টিন ম্যালিনজাক বলেন, বায়ুমণ্ডলের সব স্তরের তাপমাত্রার পরিবর্তনের গল্প মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডের। আমরা খুব ভালো করেই জানি আমাদের বার্ষিক ৪০ বিলিয়ন টনের বেশি গ্যাস নিঃসরণ ট্রপোস্ফিয়ার উষ্ণ করে তুলছে। এটি হয় কারণ গ্যাস সৌর তেজস্ক্রিয়তা শোষণ করে ও পুনরায় নির্গত করে। ঘন বাতাসের অন্যান্য অণুকে উষ্ণ করে তোলে এবং সর্বোপরি তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। কিন্তু গ্যাস শুধু ট্রপোস্ফিয়ারে থাকে না। এটি উপরের দিকে উঠে গিয়ে পুরো বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে যায়।
ওয়্যারডের প্রতিবেদন বলছে, এটি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। নিম্নভাগে প্রচুর তাপ আটকা পড়ে। আর আশপাশের পরিবেশ দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ২০০২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সংগৃহীত স্যাটেলাইট ডেটা বলছে, সবচেয়ে ওপরের দুই স্তর মেসোস্ফিয়ার এবং নিম্ন থার্মোস্ফিয়ার ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস শীতল হয়ে এসেছে। মেলিনজাক বলছেন, দ্বিগুণ কার্বন মাত্রা এ শতকের শেষ নাগাদ এই এলাকার তাপমাত্রাকে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত শীতল করবে।
ষাটের দশকে জলবায়ু মডেল নির্মাতারা অনুমান করেছিলেন, ট্রপোস্ফিরিক উষ্ণ হওয়া এবং উপরিভাগ ব্যাপক ঠাণ্ডা হওয়া মূলত বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়াকে নির্দেশ করে। সূত্র : ওয়্যারড