ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৩ ১৫:৩২ পিএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩ ১৬:৪৪ পিএম
ওড়িশার বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলের দৃশ্য। ৩ জুন তোলা। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ওড়িশার বালেশ্বরের ট্রেন দুর্ঘটনার পর ইতোমধ্যে ২০ ঘণ্টার বেশি পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে সিগন্যালের ত্রুটিই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করছে দেশটির রেল কর্তৃপক্ষ।
কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, রেলওয়ের সুপারভাইজারদের একটি যৌথ তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাদের তদন্তের মূল কথা হলো, করমণ্ডল এক্সপ্রেসকে নির্ধারিত মূল লাইন দিয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। তবে সংকেতটি একটু পরে নিভিয়ে বা অফ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় কলকাতা থেকে চেন্নাইগামী দ্রুতগতির ট্রেনটি একটি লুপ লাইনে ঢুকে পড়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ধাক্কা খেয়ে করমণ্ডলের কিছু বগি পাশের লাইনে গিয়ে পড়ে।
যে লাইনে করমণ্ডলের বগি ছিটকে পড়ে সে লাইন দিয়ে কয়েক মিনিট পরই যশবন্তপুর থেকে ছুটে আসে বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। করমণ্ডলের লাইনচ্যুত বগির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসও লাইন থেকে ছিটকে পড়ে।
জানা গেছে, কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি দুর্ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে। তবে এ বিভাগের কর্মকর্তারাও সংকেতের ব্যর্থতা বা ত্রুটির ওপর জোর দিচ্ছেন। তা ছাড়া চালকের ভূমিকাও যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
শুক্রবারের ওই ত্রিমুখী দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৮৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯০০ জনের বেশি।
ওড়িশায় শনিবার (৩ জুন) রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। চলছে মাতম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বালেশ্বরের উদ্দেশে ইতোমধ্যে দিল্লি ছেড়েছেন। রওনা করার আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শীর্ষ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। রেলওয়ে বোর্ড মেম্বার জয়া বর্মা সিনহার থেকে শুনেছেন দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্তসার।
সূত্র : দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস