প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৩ ০৮:৪১ এএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৩ ১০:৩০ এএম
রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত রুশ বিজ্ঞানী আনাতলি মাসলভ। ছবি : সংগৃহীত
শব্দের থেকেও ১০ গুণ গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র
গবেষণায় রাশিয়া সবচেয়ে অগ্রসর দেশ। অথচ তাদের এই প্রকল্পের কারিগরদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ
তিন বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে
অভিযোগের বিষয়ে ক্রেমলিন স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, খুব সম্ভব
চীনে ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত তথ্য পাচারে তারা জড়িত ছিলেন।
এই তিন বিজ্ঞানীর একজন আনাতোলি মাসলভের বিচারকাজ কড়া গোপনীয়তার মধ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গ আদালতে বৃহস্পতিবার (১ জুন) শুরু হয়েছে।
এমন সময় তার বিচার শুরু হলো যে বয়সের কারণে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রি ট্রায়াল সেন্টারে
আটক থাকা ৭৬ বছর বয়সি এ আসামিকে তার নিয়মিত চিকিৎসকের দ্বারা নির্ধারিত সব ওষুধ গ্রহণের
সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার শারিরীক অবস্থা ভালো নয়। তবে সেই সূত্রের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই
করা সম্ভব হয়নি।
মাসলভের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,
তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং গত বছরের জুনে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও তিনি
হাসপাতালে ছিলেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গ আদালত বলছে, বিচারকাজটি
টপ সিক্রেট হিসেবে চিহ্নিত। ফলে গণমাধ্যম এবং জনসাধারণের জন্য শুনানিতে প্রবেশ বন্ধ
রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মাসলভের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ
করা সম্ভব হয়নি।
তবে একটি সূত্র বলছে, মাসলভ নিজেকে নির্দোষ
দাবি করেছেন এবং বলেছেন, নিজেকে তিনি বিশ্বাসঘাতক মনে করেন না। সবকিছু তিনি ঠিকভাবেই
করেছেন।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট গত এপ্রিলে রাষ্ট্রদ্রোহের
সাজা ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করেছে। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকি জীবন কারাগারেই
কাটাতে হবে মাসলভকে।
মাসলভ ছিলেন রাশিয়ার অন্যতম
শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র
খ্রিস্টিয়ানোভিচ ইনস্টিটিউট অব থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড মেকানিক্সের একজন
অধ্যাপক এবং গবেষক। তিনিসহ তিনজন
আসামিই হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। খ্রিস্টিয়ানোভিক ইনস্টিটিউটের তাদের সহকর্মীরা গত ১৫ মে
জেলে থাকা বিজ্ঞানীদের সমর্থনে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। যে চিঠিতে অভিযুক্তদের নির্দোষ ও দেশপ্রেমিক দাবি করা হয়েছে।
এই তিনজন সম্পর্কে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিজ্ঞানের সেবা করার জন্য তারা বিদেশে উচ্চবেতন
প্রত্যাখ্যান করে দেশে ছিলেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা
হয়, ‘আমরা তাদের প্রত্যেককে ভদ্র ব্যক্তি হিসেবে জানি। তদন্তকারী
কর্তৃপক্ষ তাদের যে কারণে সন্দেহ করছেন, তা করতে তারা সক্ষম নন। এই পরিস্থিতিতে
আমরা কেবল আমাদের সহকর্মীদের ভাগ্যের জন্য ভীত নই। আমরা কীভাবে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে
পারি, তা বুঝতে পারছি না। আজকে আমরা যার জন্য পুরস্কার পেয়েছি এবং অন্যদের কাছে একটি
উদাহরণ তৈরি করেছি, আগামীকাল দেখা যাবে সেটাই ফৌজদারি মামলার কারণ হবে।’
সূত্র : আল জাজিরা