প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৩ ২০:৪৪ পিএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৩ ২২:০১ পিএম
কুস্তিগিরদের সমর্থনে বৈঠক করেন কৃষকনেতারা। ১ জুন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে। ছবি: সংগৃহীত
কুস্তিগিররা ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন কৃষকেরা। বিষয়টি নিয়ে দরকার হলে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (১ জুন) উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে মহাপঞ্চায়েত থেকে কৃষকনেতারা এসব ঘোষণা দেন।
ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, কুস্তিগিরদের একটা কথাই আমরা বলতে চাই, আমরা শেষ পর্যন্ত তোমাদের পাশে আছি। দরকার পড়লে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছে যাব। তোমাদের কোনও চিন্তা নেই।
শুক্রবার (২ জুন) হরিয়ানায় আরও একটি বৈঠক হবে। সেখানে আন্দোলন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঠিক হবে বলে জানিয়েছেন রাকেশ।
কৃষকনেতার অভিযোগ, বিহার, উত্তরপ্রদেশে একই কাজ করেছে বিজেপি। পরিবার ভেঙেছে। কিন্তু তাঁদের ভাঙা সহজ হবে না বলেই দাবি রাকেশের। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিহারে লালু প্রসাদ যাদবের পরিবার ভেঙেছে। উত্তরপ্রদেশে মুলায়ম মিংহ যাদবের পরিবারের সঙ্গে ওরা কী করেছে সেটা আমরা দেখেছি। রাজস্থানেও একই ঘটনা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ওরা ভাঙতে পারবে না। কারণ, আমাদের পরিবার অনেক বড়। তা দিন দিন আরও বাড়ছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ভারতীয় কুস্তি সংস্থার সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের গ্রেপ্তারের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন করছেন বজরং পুনিয়া, সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগটের মতো কুস্তিগিররা। কেন্দ্রকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন তাঁরা। তার মধ্যে দু’দিন পার হয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার কুস্তিগিরদের দাবি না মানলে চার দিক থেকে দিল্লি সীমান্ত ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছেন কৃষকেরা।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটির কুস্তিগিররা রেসলিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (ডব্লিউএফআই) সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল। তার বিরুদ্ধে নারী কুস্তিগিরদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
যৌন হয়রানির অভিযোগের পর শরণ সিংয়ের সব প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় কুস্তিগিররা সাময়িকভাবে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
কিন্তু ২৩ এপ্রিল থেকে কুস্তিগিররা ফের আন্দোলন শুরু করেন। এবার তারা শরণ সিংয়ের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। দ্বিতীয় দফায় আন্দোলন শুরুর পর থেকে কুস্তিগিররা নতুন পার্লামেন্ট ভবন এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন।
২৫ মে পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেশটির ২০টি বিরোধী দল বয়কট করে। অর্থাৎ প্রায় বিরোধী দলশূন্য অবস্থায় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশটির নতুন পার্লামেন্ট ভবন উদ্বোধন করা হয়।
এনডিটিভি ও রয়টার্স জানায়, বিরোধীদের অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নতুন পার্লামেন্ট ভবন উদ্বোধন করার কথা। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে তা উদ্বোধন করলেন সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদি।
বিরোধীদের অন্য অভিযোগ, মোদি সরকার ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাই তারা পার্লামেন্ট ভবন উদ্বোধনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, রয়টার্স, এনডিটিভি