এরদোয়ানকে বাইডেনের ফোন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৩:০৮ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১৩:১৩ পিএম
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২২ সালের জুনে স্পেনে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে। ছবি : সংগৃহীত
রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তৃতীয়বারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার (২৯ মে) তাদের মধ্যে এ ফোনালাপ হয়। বাইডেন নিজে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাইডেন বলেন, আমি এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে আমি অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি এখনও এফ-১৬ কিনতে আগ্রহী। আমি তাকে বলেছি, সুইডেনকে আমরা ন্যাটোতে চাই। চলুন আগে সেটা শেষ করি।
সুইডেনের ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে এরদোয়ান কী বলেছেন, এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা অল্প আলাপ করেছি। আগামী সপ্তাহে আমাদের মধ্যে আরও কথা হবে।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক বছর ধরে ২ হাজার কোটি ডলারে অনেকগুলো এফ-১৬ ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম কেনার চেষ্টা করছে তুরস্ক। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনায় তা স্থগিত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বাইডেন ক্ষমতায় এসে তুরস্ককে এফ-১৬ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেয়। এ অবস্থায় ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার পর ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটটিতে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার জন্য সব সদস্যের অনুমোদন লাগে। ফিনল্যান্ডের অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে।
সুইডেনের এখনও বাকি। তুরস্ক ও হাঙ্গেরি এ ক্ষেত্রে বাধ সেজেছে। তুরস্কের অভিযোগ, সশস্ত্র কুর্দিদের আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে সুইডেন। তুরস্ক ও সিরিয়ায় তৎপর কুর্দি সশস্ত্র সংগঠনকে সন্ত্রাসী মনে করে আঙ্কারা। তাই তাদের সহায়তা বন্ধ করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেই কেবল সুইডেনের সদস্যপদ অনুমোদন করবে তুরস্ক।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়াশিংটন এফ-১৬ বিক্রি করতে রাজি হলে সুইডেনকে ন্যাটোয় অনুমোদন করবে এরদোয়ান সরকার।
বাইডেনের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগীতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় হলেও বিষয়গুলোর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বেশ উল্লেখযোগ্য।
তুরস্কে রবিবার (২৮ মে) দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫২ দশমিক ১৪ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এরদোয়ান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ ভোট।
তার আগে ১৪ মে দেশিটির প্রথম নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভোট পাননি। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধনকারী গুরুত্বপূর্ণ দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য কোনো প্রার্থীর অন্তত ৫০ শতাংশ ভোট দরকার হয়।
সূত্র: রয়টার্স