প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ১৪:১৩ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে ৯ মে সহিংস বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আটক পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থকদের ধরপাকড়ের ঘটনা নিয়ে এবার শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন পিটিআইপ্রধান তথা দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
ইমরান শীর্ষ আদালতকে তার কর্মীদের নিগ্রহের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুরুর আবেদন জানিয়েছেন।
ইমরানের অভিযোগ, ‘পিটিআইয়ের নারী কর্মীদের শাস্তি হিসেবে ধর্ষণের মুখে পড়তে হচ্ছে।’
এমন প্রতিবেদনই প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সংবাদপত্র দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
এদিকে রবিবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইমরান সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যে ভুয়া এনকাউন্টার ও ধর্ষণের ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করছেন।’
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কল রেকর্ড করে এ খবর জানতে পেরেছে বলেও দাবি করেন রানা।
রানা অভিযোগ করে বলেন, ‘ইমরান পরিকল্পনা করেছেন তার দলেরই কোনো নেতার বাড়িতে ভুয়া গুলি চালানোর; যাতে বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিহিংসার মনোভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।’
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানার দাবি, ‘একই সঙ্গে নারী পিটিআই কর্মীকে ধর্ষণ করে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে ইমরানের। রেকর্ড করা ফোনকলে এ ঘটনাও জানা গেছে। পুরো পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য বিশ্বের কাছ থেকে সহানুভূতি কুড়ানো।’
সানাউল্লাহ যদিও নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
এর পরই পাল্টা জবাব দেন ইমরান। রবিবার লাহোরের জামান পার্কের বাড়ি থেকে একটি জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। সেখানে বলেন, ‘রানা সানাউল্লাহর সংবাদ সম্মেলনের পর আমার আর কোনো সন্দেহ নেই। যেভাবে পিটিআইয়ের নারী কর্মীদের আটক করে জেলে ভরা হয়েছে এবং যেভাবে তাদের রাখা হচ্ছে, তাতে ধর্ষণের কথাও শুনতে পাচ্ছি।’
ইমরানের পাল্টা দাবি, ‘রানার সংবাদ সম্মেলন থেকে দুটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। প্রথমত তারা ভীত এই ভেবে যে, এই নারীরা মুক্তি পেয়ে বের হলে তাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে তা খুলে বলবেন। তাই নতুন নতুন গল্প বানানো হচ্ছে। অথবা তারা নিজেরা বুঝতে পারছেন, খুব বড় ভুল হয়ে গেছে। এবার সেই ভুলকে ঢাকার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চলছে রানার মনগড়া বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে।’
৯ মে আদালত চত্বর থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করার পরই অশান্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তান। ইমরানের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে পথে নামেন পিটিআই কর্মী-সমর্থকরা।
অনেক জায়গায়ই পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন পিটিআই কর্মীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয় ধরপাকড়।
ইমরানের অভিযোগ, তার সমর্থকদের ধরে নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার করছে পাকিস্তান সরকারের পুলিশ।
নারী সমর্থকদের ইমরানকে সমর্থন করার জন্য ধর্ষণ করা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার পরই এ ব্যাপারে শীর্ষ আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করারও আর্জি জানান তিনি।
অন্যদিকে ইমরানের ওপরও চাপ ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন পিএমএল (এন) প্রধান নওয়াজ শরিফ।
সূত্র : জাসারাত