প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩ ১৭:১৪ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৩ ১৭:৩৪ পিএম
গাম্বিয়ার বুন্দুংয়ের একটি হাসপাতালে মেয়ে শিশুকে নিয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষা করছেন এক নারী।(ফাইল ফটো)। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের হরিয়ানার মেডেন ফার্মার তৈরি চারটি কাশির ওষুধ খেয়ে গাম্বিয়াতে ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলে গত বছর অভিযোগ উঠেছিল।
এ ঘটনা তদন্তের স্বার্থে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়।
সেই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কফ সিরাপেই যে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, এর পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। তাই সরকারের তরফে ওই কফ সিরাপগুলোকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়।
তবে এবার সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ওষুধের জেরেই কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দেয় গাম্বিয়ার সেই শিশুদের। আর তার জেরেই মৃত্যু হয় তাদের।
ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সেই রিপোর্ট তারা দেখেছে। এই বছরের শুরুর দিকে গাম্বিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ওই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল। তবে সে দেশের সরকার ওই রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
ভারত সরকারের দাবির আর ওই আন্তর্জাতিক রিপোর্টের বিষয়বস্তু পুরোপুরি আলাদা বলে জানা গেছে।
ভারত দাবি করেছে, হরিয়ানায় তৈরি ওষুধের কারণে মৃত্যু হয়নি সেই শিশুদের। এ নিয়ে গাম্বিয়ার সরকার ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মুখ খোলেননি।
এদিকে গত বছর গাম্বিয়ার এই ঘটনায় ভারতের নাম খারাপ হয়েছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে ভারতকে বর্তমানে 'বিশ্বের ফার্মেসি' বলে অভিহিত করা হয়। তবে ভারতে তৈরি এই ওষুধের ওপর প্রশ্নচিহ্ন ওঠায় অস্বস্তিতে পড়ে ভারত।
মধ্য এশিয়া, আফ্রিকাসহ বহু জায়গায় জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করে ভারত। সেসব ওষুধের অধিকাংশই অবশ্য ভারতের বাজারে বিক্রি করা হয় না।
হরিয়ানার মেডেন ফার্মার তৈরি প্রোমেথাজিন ওরাল সলিউশন, কফেক্সমালিন বেবি কফ সিরাপ, মাকফ বেবি কফ সিরাপ ও ম্যাগ্রিপ এন কোল্ড নামক কাশির সিরাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে গত বছর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ওষুধগুলোর পরীক্ষিত নমুনায় মিলেছে ডাইইথিলিন গ্লাইকল ও ইথিলিন গ্লাইকল। এই দুই পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে পেটব্যথা, বমি, মূত্রত্যাগের সমস্যা ও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ্যে আসার পরই গত বছরের ১, ৩, ৬ ও ৭ অক্টোবর হরিয়ানার সেই ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে হানা দেন ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তারা। তারা ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান।
সূত্র : ব্লুমবার্গ