প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৩ ১৭:৩০ পিএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৩ ১৭:৪২ পিএম
অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীরা। ছবি : আফ্রিকা নিউজ
দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ায় কলেরার প্রাদুর্ভাবে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রবিবার জনসাধারণকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রিটোরিয়ার গৌতেং প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সোমবার (২২ মে) থেকে ৯৫ জন লোক ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও কলেরার লক্ষণ নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
রবিবার ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের মধ্যে ১৯ জন কলেরায় আক্রান্ত ছিল।
বিভাগটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ৩৭ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন বছরের একটি শিশু ও ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক বলে জানা গেছে।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্যপ্রধান নোমান্টু এনকোমো-রালেহোকো বলেন, ’প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রিটোরিয়ার উত্তরে হামানসক্রালে চিকিৎসক ও নার্সসহ অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।’
এনকোমো-রালেহোকো বলেন, ‘আমরা জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখায় জ্ঞাত-অজ্ঞাত দূষিত খাবার, পানি ও পৃষ্ঠতল এড়াতে এবং খাওয়ার আগে বা বাথরুম ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে যথাযথভাবে হাত ধোয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছি।’
কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত রোগ, যা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
এর আগে প্রিটোরিয়া শহর হ্যামানসক্রাল এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কল থেকে সরাসরি পানি পান না করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ’পানির ট্যাংকার সরবরাহ করা হচ্ছে।’
জাতিসংঘের মতে, এক দশকব্যাপী হ্রাস পাওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী কলেরার পুনরুত্থান ঘটেছে।
৪৩টি দেশের এক বিলিয়ন মানুষ কলেরার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে চলতি সপ্তাহে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। তাই রোগটি দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় নয়।
জাতিসংঘের মতে, দেশটিতে চলতি বছর অল্পসংখ্যক লোক আক্রান্ত হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালে নিকটবর্তী দুটি দেশ মালাভি ও মোজাম্বিকে প্রাদুর্ভাবে এই বছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, সংঘাত বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনকে এর জন্য দায়ী করেছে।
সূত্র : আফ্রিকা নিউজ