প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৩ ২২:০৫ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৩ ২২:০৮ পিএম
(বাঁ থেকে) সালেহ মীরহাসেমি, মাজিদ কাজেমি এবং সাঈদ ইয়াকুব। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু হলে পুরো দেশে সরকার ও হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্যকে হত্যার অভিযোগে শুক্রবার আরও তিন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর করল দেশটির সরকার।
ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে আলজাজিরা জানায়, শুক্রবার (১৯ মে) সালেহ মীরহাসেমি, মাজিদ কাজেমি এবং সাঈদ ইয়াকুব নামের তিন ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই গুঞ্জন ওঠে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। এরপর তারা ইস্ফাহানের যে কারাগারে বন্দী ছিলেন তার আশপাশে অনেকে জড়ো হয়।
গত সপ্তাহে কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা ও দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যরা একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেন, যেন তাদের দণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। তাদের পরিবারের দাবি ছিল, আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের দুইজন সদস্য এবং পুলিশের এক সদস্যকে হত্যার যে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, সেটির শক্তিশালী কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। গত ১৬ নভেম্বর বিক্ষোভকারীদের হাতে প্রাণ হারান নিরাপত্তা বাহিনীর এ সদস্যরা।
বুধবার (১৭ মে) রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কারাগারে প্রবেশের সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ওই সময়ই আশঙ্কা দেখা দেয়, যেকোনো সময় তাদের দণ্ড কার্যকর করা হবে।
শুক্রবার এ তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরপরই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাদের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার কথা স্বীকার করছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক এ স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সেপ্টেম্বরের হিজাব ও সরকার বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা