প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ১৩:১৩ পিএম
যুদ্ধ নিরসনে কিয়েভে আলোচনার টেবিলে লি হুই। ছবি : আলজাজিরা
শীর্ষ চীনা দূতকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কিয়েভ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, যাতে ইউক্রেন তার ভূমি হারায়।
ইউরেশীয় বিষয়ক চীনের বিশেষ প্রতিনিধি এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত লি হুইয়ের মধ্যে কিয়েভে এক বৈঠকের সময় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা এই মন্তব্য করেন।
খবরটি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (১৭ মে) এক বিবৃতিতে বলেছে, লি'র সঙ্গে ‘রুশ আগ্রাসন বন্ধ করার উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন কুলেবা।
ওই বৈঠকে কুলেবা জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন এমন কোনও প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, যা তার অঞ্চলগুলো হারানোর শঙ্কা বহন করে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয় কুলেবা বলেছেন, ‘ইউক্রেনে ন্যায় শান্তি পুনরুদ্ধার করা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের উপর নির্ভর করে।’
বিরোধ নিরসনে বেইজিংয়ের নেতৃত্বে আলোচনার জন্য লি মঙ্গলবার ও বুধবার কিয়েভে ছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১৮ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লি ইউক্রেনকে বলেছেন যে, সংকট শেষ করার দ্রুত কোনো পথ নেই।
অপর এক বিবৃতিতে লি বলেছেন, ‘সংকট সমাধানের জন্য কোনো প্রতিষেধক নেই এবং সব পক্ষকে নিজ থেকেই পদক্ষেপ শুরু করতে হবে, পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে এবং যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইউক্রেনের মানবিক পরিস্থিতির প্রশমনে সবসময়ই তার নিজস্ব উপায়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে চীন এবং ইউক্রেনকে তার সামর্থ্যের মধ্যে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে বেইজিং।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো আক্রমণ করার পর থেকে ইউক্রেন সফরকারী লি হলেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের চীনা কূটনীতিক।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার তিন সপ্তাহ পরে তিনি কিয়েভে পা রাখেন।
এদিকে, কিয়েভের ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া সংস্থা জানিয়েছে, জেলেনস্কি একই দিনে চীনে ইউক্রেনের নতুন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এজেন্স ফ্রান্স-প্রেসকে বলেছেন, ‘ইউক্রেনের মূল্যে সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি কার্যকর হবে না।’
অন্যদিকে বেইজিং বলেছে, লি’র এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক নিষ্পত্তির বিষয়ে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
চীন সরকারের মতে লি এখন মস্কো সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি পোল্যান্ড, জার্মানি এবং ফ্রান্সের সঙ্গেও এই সংঘাতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন।
শি মার্চ মাসে মস্কো সফর করেছিলেন এবং চীনকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসাবে অবস্থান নেওয়ার টার্গেট নিয়েছিলেন।
১৫ মাস ব্যাপী যুদ্ধের নিন্দা করতে অস্বীকার করার জন্য সমালোচিত হয়েছে চীন। কারণ, চীন রাজনৈতিকভাবে মস্কোকে সমর্থন করেছে।
সূত্র : আলজাজিরা