প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম
রাশিয়ার হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার ছয়টি হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র এক রাতের মধ্যে ভূপাতিত করেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর জন্য এটি বড় একটি দুঃসংবাদ। কারণ বহুদিন ধরেই পরবর্তী প্রজন্মের অপ্রতিরোধ্য অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল তারা।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করতে কিয়েভ কোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ব্যবহার করে কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছিল বলে জানিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
প্যাট্রিয়টের পূর্ণরূপ দাঁড়ায় ‘ফেজড অ্যারে ট্র্যাকিং রাডার ফর ইন্টারসেপ্ট অন টার্গেট’। এটি তৈরি করেছে রেথিওন টেকনোলজিস করপোরেশন। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সবচেয়ে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধরা হয় একে। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রথম এটি ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীকালে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও মার্কিন সেনাবাহিনীকে প্যাট্রিয়ট ব্যবহার করতে দেখা যায়।
যুদ্ধক্ষেত্রে হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবহারের চল শুরু হওয়ার আগে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছিল। রেথিওনও এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি এটি হাইপারসনিক গতিতে ছুটতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য কার্যকর কি না। প্রসঙ্গত, শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতির সবকিছুই হাইপারসনিক গতি।
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু সে সময় ক্ষেপণাস্ত্রের গতি কত ছিল, তা স্পষ্ট নয়। সেটির গতি হাইপারসনিক ছিল কি না, তাও জানা যায়নি। রুশ কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র ১২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটতে সক্ষম। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) গত বছরের এক প্রতিবেদন বলেছে, কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রকে রাশিয়ার হাইপারসনিক তকমা দেওয়াটা অনেকটা ভুল তথ্য দেওয়ার মতো। সব ক্ষেপণাস্ত্রই ছোটার সময় কোনো না কোনো পর্যায়ে হাইপারসনিক গতি অর্জন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মূলত মোবাইল সিস্টেম। এটিকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। এই সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী রাডার, নিয়ন্ত্রণ স্টেশন, বিদ্যুৎ জেনারেটর, উৎক্ষেপণ স্টেশন এবং অন্যান্য সহায়ক যান। কী ধরনের ইন্টারসেপ্টর (ব্যাটারি থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটির ওপর নির্ভর করে এই সিস্টেমের সক্ষমতা। যেমনÑ এখন প্যাট্রিয়টে প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়। এটি আধুনিক আঘাত-করে-ধ্বংস প্রযুক্তিতে কাজ করে। এরও আগে ব্যবহৃত হতো প্যাক-২। সেটি বিস্ফোরণে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার পন্থায় কাজ করত।
ইউক্রেনকে কোন ধরনের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম পাঠানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হয়, নতুন প্যাক-৩ সিআরআই ইন্টারসেপ্টরই পাঠানো হয়েছে। নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) ২০১৫ সালে জানায়, এই সিস্টেমের রাডারের পরিসীমা ১৫০ কিলোমিটার।
সিএসআইএসের তথ্যানুসারে, একক প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির খরচ পড়ে একশ কোটি ডলারেরও বেশি। সিস্টেমের জন্য খরচ করতে হয় ৪০ কোটি ডলার। আর ব্যাটারির ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য খরচ হয় আরও ৬৯ কোটি ডলার।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি হলেও, এতে রাশিয়ার কামিকাজে ড্রোনকে ভূপাতিত করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। এ রকম করা হলে মাত্র কয়েক হাজার ডলারের তৈরি ড্রোন ধ্বংস করতে বেশ দামি একটি সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
রেথিওন ২৪০টির বেশি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম তৈরি করেছে। সেগুলো বর্তমানে ১৮টি দেশ ব্যবহার করে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সিস্টেমটির বেশ চাহিদাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। রেথিওনের দেওয়া তথ্যানুসারে, এই সিস্টেম ২০১৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ১৫০-এরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স