প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ২১:৫২ পিএম
তুরস্কের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কেমাল কিলিকদারুগলুর মধ্যে দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াতে পারে বলে মোটামুটি নিশ্চিত।
তুরস্কের সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল বা প্রধান নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত প্রায় সব ভোটই গণনা শেষ হয়েছে। এরদোয়ান ৪৯.৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিকদারুগলু পেয়েছেন ৪৪.৭৯ শতাংশ ভোট। কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। কেননা সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৯৯.৩৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। তবে প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকায় এরদোয়ান দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়লাভ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঙ্কারায় নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন, তিনি জয় পাবেন।
এদিকে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার শপথ নিয়েছেন কেমাল কিলিকদারুগলুও। তিনি বলেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী এরদোয়ান মানুষের আস্থা ভোট অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
তুরস্কে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প এবং বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সিনান ওগান যিনি ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ ফলাফলকে পাল্টে দিয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দফা ভোটের ঘোষণা না এলেও সবাই মোটামুটি নিশ্চিত যে, ভোট দ্বিতীয় দফাতেই গড়াবে। আনুষ্ঠানিকভাবে যদি এই সিদ্ধান্ত আসে, তবে ওগান দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এমন অবস্থায় তিনি তার সমর্থকদের যে প্রার্থীকে ভোট দিতে বলবেন, তা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ওগান বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি আগামী কিছুদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জোটের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করব। আমি আমার ভোটারদের সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে আলোচনা করব। তারপরই আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।’
তুরস্কে ৬ কোটি ৪০ লাখ ভোটার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখ হচ্ছেন নতুন ভোটার, যাদের বয়স ১৮-২২ বছরের মধ্যে, যারা প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন। এরদোয়ান ও তার একে পার্টি ২০০২ সাল থেকে দেশটি শাসন করে আসছে। কাজেই এই ভোটাররা তাদের জীবদ্দশায় আর কোনো দলের শাসন দেখেননি।
২০০২ সালের আগের দশকগুলোতে তুরস্কে জোট সরকার শাসন করেছে এবং প্রতি দু-তিন বছর পরপর নির্বাচনে তাদের পরিবর্তন হয়েছে।
২৮টি আসন হারাচ্ছে একেপি
তুরস্কের ভোটাররা এবার শুধু তাদের নতুন প্রেসিডেন্টকে নির্বাচন করতেই ভোট দেননি বরং পার্লামেন্টের ৬০০ আসন পূরণেও ভোট দিয়েছেন। এরদোয়ানের একে পার্টি সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও দল হিসেবে এটি ভালো করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে একেপি। ২০২২ সালে প্রথম নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে দলটির সর্বনিম্ন ভোট পাওয়ার ঘটনা এটি। ওই বছর দলটি ৩৪ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ওই বছরের পর থেকে দলটি কখনোই ৪০ শতাংশের নিচে ভোট পায়নি।
এ ছাড়া পার্লামেন্টেও একে পার্টির আসনসংখ্যা কমে গেছে। ২০০২ সালে একেপি পেয়েছিল ৩৬৩টি আসন। এরপর থেকে প্রতি নির্বাচনেই তাদের আসনসংখ্যা কমতে থাকলেও দলটি ৩০০ আসনের কম কখনোই পায়নি।
২০১৮ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ২৯৫টিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এবারের নির্বাচনে ৩৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার মানে হচ্ছে একেপি সর্বোচ্চ ২৬৭টি আসন পাবে। তার মানে ২৮টি আসন হারাচ্ছে দলটি।
জোটে থাকা বাকি তিনটি দল আরও ৫৬টি আসন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এগুলো মিলিয়ে এরদোয়ানের জোট পার্লামেন্টে ৩২৩টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার জোট ৩৪৪টি আসন পেয়েছিল। এরদোয়ানের জোটের মধ্যে রয়েছে একেপি, উগ্র-জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি এবং আরও কয়েকটি জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি দল।
সোমবার (১৫ মে) আঙ্কারায় দলীয় কার্যালয় থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন একেপির নেতা এরদোয়ান। তিনি তার সমর্থকদের ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত নজর রাখতে বলেন।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভিন্নভাবে ভোট
গত ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কে ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেসব এলাকায় দ্রুত সহায়তা না পৌঁছানো নিয়ে সরকার সমালোচনার শিকার হয়। এর মধ্যে আটটি শহর একেপি এবং এরদোয়ানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে গত দুই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ওইসব এলাকায় ভোট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়নি। এসব শহরের মধ্যে পাঁচটিতে তার ভোট দুই থেকে তিন শতাংশ কমেছে। বাকি তিনটি শহরে ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতোই তার ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি