প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ১৪:৩৬ পিএম
ঘূর্ণিঝড় মোখা মিয়ানমারের কিয়াউকতাউ এলাকার গাছপালা এবং ভবনের ছাদ উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ছবি : আলজাজিরা
ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে মিয়ানমারে তিনজন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে মিয়ানমারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ত্রাণকর্মীরা।
কারণ ঝড়ের কারণে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের খোঁজ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে একটি মোখা রবিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ সীমান্তের দক্ষিণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের উপকূল অতিক্রম করে।
এর তাণ্ডবে মিয়ানমারে উপড়ে পড়েছে গাছ, তোরণ এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের তারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে নিচু অঞ্চলের রাস্তাগুলো হয়েছে প্লাবিত।
ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতিবেগের বাতাস নিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হামলে পড়ে মোখা।
আলজাজিরার তানভীর চৌধুরী বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে কয়েক দিন বা সপ্তাহ লাগবে। কারণ বেশ কয়েকটি ছোট বিক্ষিপ্ত উপকূলীয় দ্বীপ রয়েছে যেখানে আপাতত যোগাযোগ করার উপায় নেই।’
মিয়ানমারের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ইউএনওসিএইচএ) রবিবারের আপডেট অনুসারে, ভারী বৃষ্টির ফলে নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক তথ্য অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সিটওয়ে, কিয়াউকপিউ এবং গওয়া শহরের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
ঘূর্ণিঝাড়ে দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কোকো দ্বীপপুঞ্জের ক্রীড়া ভবনগুলোর ছাদও উড়ে গেছে।
অন্যদিকে একটি যোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ইন্টারনেট এবং ফোন পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইয়াঙ্গুন থেকে আলজাজিরাকে মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণান বলেছেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি ভয়াবহ সকাল ছিল। মিয়ানমারের উপকূল এবং বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য এ প্রবল ঝড়ের প্রভাবের ধাক্কা বহন করেছে। জাতিসংঘ জরুরি দল মোতায়েন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক লোক বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিল। আমদের আশঙ্কা ভারি ক্ষতি হয়েছে।’
সূত্র : আলজাজিরা