× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এরদোয়ানের পরাজয়ের অপেক্ষায় পশ্চিমা বিশ্ব

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১২:১১ পিএম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ১২:২৯ পিএম

ইস্তাম্বুলের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার স্ত্রী এমিন এরদোয়ান (বাঁয়ে) এবং আঙ্কারার একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন মধ্য বামপন্থি দল সিএইচপির নেতা কামাল কিলিকদারোগলু ও তার স্ত্রী সেলভি কিলিকদারোগলু। ছবি : এএফপি

ইস্তাম্বুলের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার স্ত্রী এমিন এরদোয়ান (বাঁয়ে) এবং আঙ্কারার একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন মধ্য বামপন্থি দল সিএইচপির নেতা কামাল কিলিকদারোগলু ও তার স্ত্রী সেলভি কিলিকদারোগলু। ছবি : এএফপি

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পশ্চিমা বিশ্ব, ন্যাটো সদর দপ্তর ও ক্রেমলিন সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এড়াতে পশ্চিমা নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী সম্পর্কে কথা না বললেও এটা পরিষ্কার যে, এরদোয়ান হেরে গেলে তারা খুশি হবেন।

সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ড্ট যেমন শুক্রবার বলেছেন, ‘আমরা সবাই একটি সহজ তুরস্ক চাই।’

তুরস্ক ন্যাটোর একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দেশটি এরদোয়ানের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান ঝামেলাপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনের ফলে রাশিয়ার ওপরও অনেক বেশি প্রভাব ফেলবে। এরদোয়ানের অধীনে তুরস্ক রাশিয়ার অপরিহার্য ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে এ সম্পর্ক ক্রেমলিনের কাছে আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এরদোয়ান তার ২০ বছরের শাসনামলে একটি নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেছেন, যা প্রায়ই তার পশ্চিমা মিত্রদের হতাশ করেছে। 

এরদোয়ান মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করতে অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি তিনি ক্রেমলিনকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতেও সাহায্য করেছেন। একই সময়ে হোঁচট খাওয়া তুরস্কের অর্থনীতি সম্প্রতি রাশিয়া থেকে প্রচুর ছাড়ে পাওয়া তেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যা এরদোয়ানকে এ মেয়াদেও ক্ষমতায় থাকতে সহায়তা করতে পারে।

এরদোয়ান সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানে বাধা দিয়ে মিত্রদের আরও বিরক্ত করেছেন। 

আরও বিস্তৃতভাবে বললে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ওয়াশিংটন মনে করে, এরদোয়ানের অধীনে তুরস্ক আইনের শাসন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও নিয়ম থেকে আরও দূরে সরে গেছে।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কাজা ক্যালাস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ন্যাটো ও ইইউ নির্বাচনকে ভিন্নভাবে দেখে। তিনি বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষা জোট। বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ন্যাটোকে সাহায্য করার জন্য ‘তুরস্ক এমন একটি মিত্র যার বড় সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি নির্বাচনে যেই জিতুক, এ বিষয়ে ন্যাটোর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।’

তবে অবশ্যই ন্যাটোর জন্য বড় আশা হলো তুরস্কে নেতৃত্বের পরিবর্তন সামরিক জোটটিতে সুইডেনের সদস্যপদ অনুমোদনের বিষয়ে অচলাবস্থার অবসান ঘটাবে। 

এরদোয়ানের কর্তৃত্ববাদ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ন্যাটোর সঙ্গে তার বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকি কংগ্রেসের কিছু সদস্য পরামর্শ দিয়েছেন যে, তুরস্ককে ন্যাটো জোট থেকে বহিষ্কার করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং কিছুটা হলেও ন্যাটো তুরস্কে বিরোধী দলগুলোর বিজয়ের দিকে চেয়ে আছে। এরদোয়ান ক্ষমতাচ্যুত হলে তা পুতিনের জন্যও পরাজয় হিসেবে দেখা হবে।

এরদোয়ান প্রায়ই দ্বন্দ্বমূলক জাতীয়তাবাদী বক্তব্য দিয়ে থাকেন, যা ন্যাটো জোটের জন্য অস্বস্তিকর। ক্রেমলিন তার এসব বক্তব্যকে ন্যাটো জোটকে ব্যাহত করার সম্ভাবনা হিসেবেও দেখে থাকে।

তুরস্ক শুধু সস্তায় রাশিয়ার জ্বালানি থেকে নয়, বরং রাশিয়ার বিনিয়োগ ও পর্যটন থেকেও উপকৃত হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ দুটি খাতে তুরস্কের রাজস্ব বেড়েছে। তুরস্কের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া। এ ছাড়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্ককে প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে রাশিয়া।

দীর্ঘকাল ধরে দায়িত্ব পালন করা দুই নেতা পশ্চিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্যও দিয়েছেন। পুতিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় এরদোয়ান ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

তবে পুতিন ও এরদোয়ানের অংশীদারত্ব আদর্শিক সখ্যের চেয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হয়েছে এবং দুটি দেশ ককেশাস ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। এ দুই নেতা সিরিয়া ও লিবিয়ার সশস্ত্র সংঘাতে ভিন্ন ভিন্ন দলকে সমর্থন করেন। ২০১৫ সালে তুরস্ক রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ইউক্রেনের যুদ্ধে পুতিনকে সরাসরি সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় এরদোয়ানের ওপর ক্ষুব্ধ হয় রাশিয়া।

ক্রেমলিনের জন্য আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিরোধীদলীয় নেতা কিলিকদারোগলু গত সপ্তাহে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ করেন। 

যদিও কিলিকদারোগলু প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হলে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে তিনি ইউক্রেনে এরদোয়ানের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখবেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ ফ্লেক গত মাসে যখন কিলিকদারোগলুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখন জেফ ফ্লেকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এরদোয়ান। ফ্লেকের সঙ্গে তিনি আর দেখা করবেন না বলে জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শিক্ষা দিতে হবে।’

ইউরোপের নেতারা নীরবে এরদোয়ানের পরাজয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি তারা নির্বাচন-পরবর্তী গোলযোগের আশঙ্কা নিয়েও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যদি এরদোয়ান অল্পের জন্য হেরে যান বা নির্বাচন দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যায়, তবে গোলযোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে দেশটিতে সাংবিধানিক অচলাবস্থার ঝুঁকি রয়েছে। 

সূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা